সহপাঠী সাকিবুল হাসান রানার হত্যার বিচার ও আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবিতে রাজধানীর ব্যস্ততম ফার্মগেট মোড় অবরোধ করেছেন শিক্ষার্থীরা। এতে করে বুধবার বিকেল থেকে ওই এলাকায় যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায় এবং আশপাশের সড়কগুলোতে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। অবরোধ চলাকালে একটি বিআরটিসি বাসে ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটে।
বুধবার (১৪ জানুয়ারি) বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে তেজগাঁও কলেজসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা ফার্মগেট মোড়ে সড়কের ওপর অবস্থান নেন। তারা চেয়ার-টেবিল, ব্যারিকেড ও অন্যান্য সামগ্রী ব্যবহার করে রাস্তা বন্ধ করে দেন। ফলে ফার্মগেট, কারওয়ান বাজার, তেজগাঁও ও খামারবাড়ি অভিমুখী সড়কে যান চলাচল স্থবির হয়ে পড়ে।
সরেজমিনে দেখা যায়, পুলিশ একাধিকবার শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে সড়ক থেকে সরে যাওয়ার অনুরোধ জানায়। তবে শিক্ষার্থীরা তাদের দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত রাজপথ ছাড়বেন না বলে জানিয়ে দেন। মাঝেমধ্যে সীমিত পরিসরে কিছু যানবাহন চলাচলের চেষ্টা করা হলে শিক্ষার্থীরা তার প্রতিবাদ জানান। কেউ কেউ গাড়ির সামনে শুয়ে পড়েন, আবার কেউ গাড়ির ওপর উঠে বসে পড়েন। একপর্যায়ে পুলিশ ও আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের মধ্যে ধস্তাধস্তি ও হাতাহাতির ঘটনাও ঘটে।
অবরোধ চলাকালে মিরপুরগামী বিআরটিসির একটি দ্বিতল বাসে ভাঙচুর চালানো হয়। বাসটির চালক রেজাউল করিম জানান, পুলিশ তাকে বাসটি সামনে এগিয়ে নিতে বললে তিনি ধীরে ধীরে এগোচ্ছিলেন। এ সময় হঠাৎ করে বাসটিতে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ ও ভাঙচুর শুরু হয়। আতঙ্কিত যাত্রীরা দ্রুত বাস থেকে নেমে নিরাপদ স্থানে সরে যান। বাস ভাঙচুরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের মধ্যেও কিছু সময়ের জন্য উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
আন্দোলনরত তেজগাঁও কলেজের শিক্ষার্থী সাজিদ বলেন,
“সাকিব হত্যাকাণ্ডের এক মাসের বেশি সময় পার হয়ে গেলেও এখনো কোনো দৃশ্যমান বিচারিক অগ্রগতি নেই। খুনিরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে। আমরা শুধু আশ্বাস নয়, গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আমরা রাজপথ ছাড়ব না।”
অবরোধ চলাকালে শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন স্লোগান দিতে দেখা যায়। এর মধ্যে ছিল— ‘আমার ভাই কবরে, খুনি কেন বাহিরে’, ‘বিচার চাই, বিচার চাই’, ‘দালালি চলবে না’সহ পুলিশবিরোধী নানা স্লোগান।
এ বিষয়ে ডিএমপির তেজগাঁও বিভাগের অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) মো. জুয়েল রানা জানান, সাকিবুল হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ইতোমধ্যে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
তিনি বলেন,
“ঘটনার পর একটি মামলা হয়েছে এবং বাকি আসামিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান চলমান রয়েছে। আমরা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনা করছি। আমাদের প্রধান লক্ষ্য হলো আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং এই গুরুত্বপূর্ণ সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক করা।”
উল্লেখ্য, গত ৬ ডিসেম্বর রাতে তেজগাঁও কলেজের ছাত্রাবাসে সংঘর্ষের ঘটনায় গুরুতর আহত হন শিক্ষার্থী সাকিবুল হাসান রানা। চার দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর তিনি মারা যান। ঘটনার পর থেকে শিক্ষার্থীরা দফায় দফায় বিক্ষোভ ও অবরোধ কর্মসূচি পালন করে আসছেন।