বৃহস্পতিবার , ২রা জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ১৮ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ - বর্ষাকাল || ১৭ই মহর্‌রম, ১৪৪৮ হিজরি

সাংবাদিক নঈম নিজামসহ তিনজনের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলা বাতিল, আদালতের অব্যাহতি

প্রকাশিত হয়েছে- বুধবার, ১৪ জানুয়ারি, ২০২৬

দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিনের সাবেক সম্পাদক নঈম নিজাম, পত্রিকাটির প্রকাশক ময়নাল হোসেন চৌধুরী এবং বাংলা ইনসাইডার পত্রিকার প্রধান সম্পাদক সৈয়দ বোরহান কবীরের বিরুদ্ধে দায়ের করা ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলা বাতিল করে তাদের অব্যাহতি দিয়েছেন আদালত

বুধবার (১৪ জানুয়ারি) ঢাকার সাইবার ট্রাইব্যুনালের বিচারক মোহাম্মদ সাইদুর রহমান গাজী এ আদেশ দেন। আদালত সূত্র জানায়, যেসব ধারায় এই মামলাটি দায়ের করা হয়েছিল, সেগুলো অন্তর্বর্তী সরকার কর্তৃক সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশে বাতিল করা হয়েছে। ফলে মামলাটি আইনগত ভিত্তি হারিয়েছে বলে আদালত মত দেন এবং আসামিদের অব্যাহতির আদেশ দেন।

সাইবার ট্রাইব্যুনালের বেঞ্চ সহকারী মো. জুয়েল মিয়া জানান, আসামিদের বিরুদ্ধে আরোপিত ধারাগুলো বর্তমানে কার্যকর না থাকায় মামলাটি চালিয়ে যাওয়ার কোনো আইনগত সুযোগ নেই। এ কারণেই আদালত আজ মামলাটি বাতিল করেছেন।

এর আগে গত বছরের ২৮ আগস্ট একই ট্রাইব্যুনাল নঈম নিজাম ও সৈয়দ বোরহান কবীরকে আদালতে হাজির হওয়ার জন্য পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ দিয়েছিল। ওই দিন বাংলাদেশ প্রতিদিনের প্রকাশক ময়নাল হোসেন চৌধুরী আদালতে উপস্থিত হয়ে জামিন নেন।

এরও আগে, গত বছরের ২৭ জুলাই এই তিন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছিলেন আদালত। পরে মামলার তদন্ত শেষে সিআইডি তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করে। গত বছরের ২ জুন আদালত সেই প্রতিবেদন আমলে গ্রহণ করেন।

মামলার সূত্রে জানা যায়, ২০২২ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি ব্যারিস্টার এম সারোয়ার হোসেন বাদী হয়ে নঈম নিজামসহ সাতজনের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা দায়ের করেন। আদালতের নির্দেশে মামলাটি তদন্ত করে ক্রিমিনাল ইনভেস্টিগেশন ডিপার্টমেন্ট (সিআইডি)। পরে গত বছরের ২০ নভেম্বর সিআইডির উপপরিদর্শক তারিকুল ইসলাম তিনজনকে অভিযুক্ত করে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, ২০২১ সালের ৭ সেপ্টেম্বর দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিনে ‘নুসরাতকে দিয়ে বিচ্ছু সামশু সিন্ডিকেটের ফের ষড়যন্ত্রমূলক মামলা’ শিরোনামে একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়, যা অনলাইনেও প্রচার করা হয়। ওই প্রতিবেদনে বাদী ব্যারিস্টার এম সারোয়ার হোসেন সম্পর্কে আপত্তিকর ও মানহানিকর তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়।

এছাড়া ওই সংবাদের সূত্র ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বাদীকে একুশে আগস্ট গ্রেনেড হামলার সঙ্গে জড়িত হিসেবে উপস্থাপন করে বিভিন্ন তথ্য ছড়ানো হয় বলেও মামলায় উল্লেখ করা হয়।

তবে মামলার শুনানিতে ব্যারিস্টার এম সারোয়ার হোসেন দাবি করেন, তিনি নুসরাতের আইনজীবী নন এবং কেবল একটি মামলার শুনানিতে নারাজি আবেদনের সময় উপস্থিত ছিলেন।

সব দিক বিবেচনায় নিয়ে এবং সংশ্লিষ্ট আইনের ধারা বাতিল হওয়ায় আদালত আজ সাংবাদিক নঈম নিজাম, ময়নাল হোসেন চৌধুরী ও সৈয়দ বোরহান কবীরের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাটি বাতিল করে তাদের সম্পূর্ণ অব্যাহতি প্রদান করেন