দায়িত্ব গ্রহণের পাঁচ মাসে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা, প্রশাসনিক সংস্কার এবং জনকল্যাণমূলক কর্মসূচি বাস্তবায়নে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জনের দাবি করেছে সরকার। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্দী আমিন বলেছেন, একটি ভঙ্গুর অর্থনীতি ও ক্ষতিগ্রস্ত রাষ্ট্রীয় কাঠামো নিয়ে যাত্রা শুরু করলেও স্বল্প সময়ের মধ্যে দৃশ্যমান পরিবর্তন আনা সম্ভব হয়েছে।
শনিবার (১৮ জুলাই) তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সরকারের পাঁচ মাসের কার্যক্রম ও বিভিন্ন খাতের অগ্রগতি তুলে ধরেন তিনি।
মাহ্দী আমিন বলেন, সরকারের বিভিন্ন অর্থনৈতিক পদক্ষেপের ফলে মূল্যস্ফীতি কমে ৯ দশমিক ১৬ শতাংশে নেমে এসেছে। একই সঙ্গে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বেড়ে ৩৬ দশমিক ৫৮ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। তিনি জানান, গত মার্চ মাসে রেকর্ড ৩ দশমিক ৭৫ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স দেশে এসেছে, যা অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক বার্তা বহন করছে।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, কৃষি ও সামাজিক সুরক্ষাকে অগ্রাধিকার দিয়ে সরকার ১২ লাখ ক্ষুদ্র কৃষকের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণ মওকুফ করেছে। এছাড়া ৫৫ লাখ পরিবারের জন্য ১৫ টাকা কেজি দরে চাল বিতরণ, নারী ও তরুণ উদ্যোক্তাদের সহজ শর্তে ঋণ, ফ্রিল্যান্সারদের জন্য পরিচয়পত্র, স্টার্টআপ তহবিল গঠন এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের জন্য বিশেষ কার্ড চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
স্বাস্থ্য খাতের পরিকল্পনা তুলে ধরে মাহ্দী আমিন বলেন, সরকারি হাসপাতালে জনবল সংকট দূর করতে এক লাখ নতুন কর্মী নিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যার ৮০ শতাংশ নারী। পাশাপাশি সরকারি হাসপাতালে বিনামূল্যে ডেঙ্গু পরীক্ষা, উপজেলা হাসপাতালের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং ইউনিয়ন পর্যায়ে স্বাস্থ্য ইউনিট গঠনের পরিকল্পনাও বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, গ্রামীণ স্বাস্থ্যসেবা শক্তিশালী করতে উপজেলা হাসপাতালগুলোকে পর্যায়ক্রমে ১০১ শয্যায় উন্নীত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।
শিক্ষা খাতেও একাধিক উদ্যোগের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, স্মার্ট ক্লাসরুম, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ফ্রি ওয়াই-ফাই, মিড-ডে মিল কর্মসূচি, নতুন পাঠ্যপুস্তক প্রণয়ন এবং ছাত্রীদের জন্য অনার্স পর্যন্ত অবৈতনিক শিক্ষার ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিদেশে উচ্চশিক্ষায় আগ্রহী শিক্ষার্থীদের জন্য ব্যাংক গ্যারান্টি হিসেবে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ সুবিধা দেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে।
মাহ্দী আমিন বলেন, দেশের অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার, স্থিতিশীলতা এবং দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন নিশ্চিত করতে সরকার ‘রিকভারি, রেস্টোরেশন অ্যান্ড রিকনস্ট্রাকশন’ কৌশল বাস্তবায়ন করছে। এ কৌশলের মাধ্যমে অর্থনীতিকে আরও টেকসই ও গতিশীল করার লক্ষ্যে বিভিন্ন সংস্কার কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।