সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে তরুণ প্রজন্মকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন ঢাকা-৫ আসনে ১১ দলীয় জোট সমর্থিত দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের সংসদ সদস্য প্রার্থী মোহাম্মদ কামাল হোসেন। তিনি বলেন, ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়—বিশ্বের প্রতিটি বড় পরিবর্তন ও বিপ্লব তরুণদের হাত ধরেই এসেছে। বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতাযুদ্ধ থেকে শুরু করে সাম্প্রতিক জুলাই আন্দোলন—সবকিছুর মূল শক্তিই ছিল তরুণ সমাজ।
রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে ঢাকা-৫ আসন কমিটির উদ্যোগে দনিয়া কলেজ মাঠে আয়োজিত তারুণ্যের উৎসব অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মোহাম্মদ কামাল হোসেন বলেন, ৫ আগস্ট পরবর্তী নতুন বাংলাদেশ গড়ার পথে সন্ত্রাস, দুর্নীতি ও চাঁদাবাজি বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এসব অপশক্তিকে ব্যালটের মাধ্যমে প্রত্যাখ্যান করাই এখন সময়ের দাবি।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি তরুণদের উদ্দেশ্যে বলেন, ব্যালটের মাধ্যমে সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ ও দুর্নীতিবাজদের বয়কট করতে হবে। তিনি দাবি করেন, জামায়াতে ইসলামী দুর্নীতিমুক্ত, সন্ত্রাসমুক্ত, চাঁদাবাজমুক্ত, বৈষম্যহীন সমাজ গঠন এবং ইনসাফ ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে একটি কল্যাণমুখী ও মানবিক রাষ্ট্র গড়ে তুলতে চায়। এ লক্ষ্যে তরুণদের জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।
গণভোট প্রসঙ্গে কামাল হোসেন বলেন, গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিলে ফ্যাসিবাদের পথ চিরতরে বন্ধ হবে, জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠিত হবে এবং একদলীয় শাসনব্যবস্থার অবসান ঘটবে। আর যারা ‘হ্যাঁ’-এর বিপক্ষে অবস্থান নিচ্ছে, তারা আবারও ফ্যাসিবাদ কায়েম করতে ও মানুষের কণ্ঠরোধ করতে চায়। তিনি বলেন, “হ্যাঁ মানে আজাদি, আর না মানে গোলামি।”
অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তার বক্তব্যে ইসলামী ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ সিবগা বলেন, একটি সুন্দর ও ন্যায়ভিত্তিক বাংলাদেশ গড়তে গিয়ে বারবার মানুষকে জীবন দিতে হয়েছে। গত ১৬ বছর মানুষ নির্যাতিত হয়েছে, ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হয়েছে। যারা রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে ছিল, তারা শাসক ও শোষকে পরিণত হয়েছিল।
তিনি জুলাই আন্দোলনের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, অধিকার আদায়ের দাবিতে ছাত্রসমাজ রাজপথে নেমে আসে এবং শহীদ আবু সাঈদের আত্মত্যাগ সেই সংগ্রামকে আরও শক্তিশালী করে। তবে জুলাই-পরবর্তী সময়ে নতুন করে চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাস মানুষের স্বপ্ন ভেঙে দিয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
সিবগাতুল্লাহ সিবগা দাবি করেন, তরুণ শিক্ষার্থীদের বয়কটের কারণে সংশ্লিষ্ট একটি রাজনৈতিক দলের ছাত্র সংগঠন বিশ্ববিদ্যালয় সংসদ নির্বাচনে ভরাডুবি হয়েছে এবং জাতীয় নির্বাচনেও তরুণ প্রজন্ম ব্যালটের মাধ্যমে তাদের প্রত্যাখ্যান করবে।
জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগর দক্ষিণের কর্মপরিষদ সদস্য আব্দুস সালাম–এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আহ্বায়ক শাহরিয়ার, ডাকসুর ক্রীড়া সম্পাদক আরমান হোসেন, নেজামে ইসলাম পার্টির নায়েবে আমির মাওলানা মোখলেসুর রহমান কাসেমী, যাত্রাবাড়ী পূর্ব থানা আমির শাহজাহান খান এবং এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক দীন ইসলাম মিন্টু।