বৃহস্পতিবার , ২রা জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ১৮ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ - বর্ষাকাল || ১৭ই মহর্‌রম, ১৪৪৮ হিজরি

সংস্কার বাস্তবায়নে অগ্রগতি না হলে জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে আন্দোলনের হুঁশিয়ারি বিরোধী দলের

প্রকাশিত হয়েছে- বুধবার, ১ জুলাই, ২০২৬

জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের মাধ্যমে রাজনৈতিক দলগুলোর অংশগ্রহণে যে সংস্কার সনদ তৈরি হয়েছে, তার ভিত্তিতে জনগণ গণভোটে সংস্কারের পক্ষে রায় দিলেও সরকার সেই ম্যান্ডেট বাস্তবায়নে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি। তিনি সতর্ক করে বলেন, সংসদে সুযোগ না পেলে তারা জনগণের কাছে গিয়ে আন্দোলনের মাধ্যমে সেই ম্যান্ডেট বাস্তবায়ন করবে।

বুধবার (১ জুলাই) জাতীয় সংসদের এলডি হলে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি দাবি করেন, ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর গঠিত জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের দীর্ঘ আলোচনায় ৩১টি রাজনৈতিক সংগঠন একটি সংস্কার সনদে একমত হয়। তার ভাষ্য অনুযায়ী, “বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টি” ছাড়া বাকি সব দল শেষ পর্যন্ত ওই সনদে স্বাক্ষর করেছে।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, একই দিনে জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট আয়োজন এবং গণভোটের ফল সবাই মেনে নেওয়ার বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে অঙ্গীকার ছিল। তার দাবি অনুযায়ী, গণভোটে প্রায় ৬৮.৬ শতাংশ মানুষ সংস্কারের পক্ষে রায় দেন। কিন্তু সেই রায় অনুযায়ী সংস্কার পরিষদ গঠন ও বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া এগোয়নি।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, বিরোধী দলের সদস্যরা সংসদ সদস্য হিসেবে এবং সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবেও শপথ নেওয়ার বিষয়ে একমত থাকলেও সরকারি দলের সদস্যরা কেবল সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিয়েছেন। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বিষয়টি সংবিধানে নেই—এই যুক্তি তিনি গ্রহণযোগ্য মনে করেন না।

তার মতে, অতীতে কেয়ারটেকার সরকার ব্যবস্থা কিংবা বিভিন্ন গণভোটের মতো অনেক বিষয়ই সংবিধানে পূর্বে না থাকলেও রাজনৈতিক প্রয়োজনেই বাস্তবায়িত হয়েছে। তাই বর্তমান পরিস্থিতিতেও জনগণের রায় বাস্তবায়নে উদ্যোগ নেওয়া উচিত ছিল।

তিনি আরও বলেন, সংসদে বিষয়টি উত্থাপন করা হলেও কার্যকর আলোচনার সুযোগ দেওয়া হয়নি এবং পরবর্তীতে আলোচনা হলেও কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসেনি। এতে বিরোধী দল সিদ্ধান্ত নিয়েছে, সংসদের বাইরে গিয়ে জনগণের সঙ্গে যুক্ত হয়ে আন্দোলন চালিয়ে যাবে।

ডা. শফিকুর রহমান সতর্ক করে বলেন, জনগণকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি থেকে তারা সরে আসবে না। তার মতে, জনগণের রায় ও ম্যান্ডেট বাস্তবায়ন না হলে দেশে নতুন রাজনৈতিক সংকট তৈরি হতে পারে।

সরকারের সংবিধান সংশোধন কমিশন গঠনের উদ্যোগের সমালোচনা করে তিনি বলেন, জনগণ শুধুমাত্র সংশোধন নয়, বরং বিস্তৃত সংস্কারের পক্ষে রায় দিয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, “সংস্কার” এবং “সংবিধান সংশোধন” এক জিনিস নয়।

তিনি দাবি করেন, আদালতের রায়ের মাধ্যমে অতীতে অনেক সাংবিধানিক পরিবর্তন বাতিল হয়েছে, তাই জনগণের ম্যান্ডেটভিত্তিক সংস্কারের ক্ষেত্রে ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োজন।

শেষে তিনি বলেন, তাদের আন্দোলন চলবে এবং সময়ের সঙ্গে জনগণের অন্যান্য দাবিও এই কর্মসূচিতে যুক্ত হতে পারে।