ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের প্রার্থীদের দাখিল করা হলফনামায় সম্পদ, আয় ও আইনি অবস্থার বৈচিত্র্যময় চিত্র উঠে এসেছে। বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন প্রকাশিত এসব তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, সম্পদ ও আয়ের দিক থেকে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) জোটের প্রার্থীরা তুলনামূলকভাবে এগিয়ে রয়েছেন।
সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছেন ঢাকা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নিপুণ রায় চৌধুরী। তার হলফনামা অনুযায়ী, ব্যক্তিগতভাবে তার কাছে ৫০২ ভরি স্বর্ণালঙ্কার রয়েছে এবং তার স্বামী অমিতাভ রায়ের নামে আরও ১০০ ভরি গহনা আছে। সব মিলিয়ে তাদের পরিবারের স্বর্ণের পরিমাণ দাঁড়ায় ৬০২ ভরি। তিনি এগুলো উপহার হিসেবে পেয়েছেন বলে উল্লেখ করেছেন। নিপুণ রায়ের বার্ষিক আয় প্রায় ৩০ লাখ ৫০ হাজার টাকা এবং তার ব্যাংকে ১ কোটির বেশি টাকার স্থায়ী আমানত রয়েছে। এছাড়া তার মালিকানায় দুই কোটি টাকার বেশি মূল্যের দুটি গাড়িসহ মোট অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ প্রায় ১০ কোটি ৫০ লাখ টাকা। তার বিরুদ্ধে থাকা ২৩টি মামলায় গত বছর অব্যাহতি বা খালাস পেয়েছেন।
বিএনপির আরেক প্রবীণ নেত্রী সেলিমা রহমান-এর বার্ষিক আয় ৩৬ লাখ টাকার বেশি এবং তার মোট সম্পদের পরিমাণ প্রায় ৬ কোটি ৮৮ লাখ টাকা। তার বিরুদ্ধে থাকা আটটি মামলা গত বছর প্রত্যাহার করা হয়েছে। এছাড়া প্রার্থী রেহেনা আক্তার রানু প্রায় ৩ কোটি টাকার সম্পদ, সানজিদা ইসলাম তুলি ২ কোটির বেশি এবং শামীম আরা বেগম স্বপ্না প্রায় ৪ কোটি টাকার সম্পদের তথ্য দিয়েছেন।
অন্যদিকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী-এর প্রার্থীদের সম্পদের পরিমাণ তুলনামূলকভাবে কম। প্রার্থী নূরুন্নিসা সিদ্দীকার মোট সম্পদ প্রায় ৩০ লাখ টাকা এবং তার বিরুদ্ধে কোনো মামলার তথ্য পাওয়া যায়নি।
জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-র প্রার্থী মাহমুদা আলম মিতুর কোনো স্থাবর সম্পদ না থাকলেও অস্থাবর সম্পদ রয়েছে প্রায় ৩১ লাখ টাকার এবং তার কাছে ৩০ ভরি স্বর্ণালঙ্কার রয়েছে। পেশায় চিকিৎসক এই প্রার্থীর বার্ষিক আয় প্রায় ৩ লাখ টাকা।
স্বতন্ত্র জোটের প্রার্থী সুলতানা জেসমিন প্রায় সাড়ে ৫ লাখ টাকা বার্ষিক আয় এবং প্রায় ২৮ লাখ টাকার সম্পদের তথ্য দিয়েছেন। তার বিরুদ্ধে থাকা পাঁচটি মামলাও গত বছর প্রত্যাহার করা হয়েছে।
নির্বাচন কমিশন ইতোমধ্যে ৫০টি সংরক্ষিত নারী আসনের মধ্যে বিএনপি জোটের ৩৬ জন, জামায়াতে ইসলামীর ১২ জন এবং স্বতন্ত্র জোটের ১ জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেছে। একজন প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল হলেও আপিলের সুযোগ রয়েছে। আগামী ২৯ এপ্রিল প্রার্থিতা প্রত্যাহারের সময়সীমা শেষ হলে প্রতিদ্বন্দ্বী না থাকলে প্রার্থীরা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হতে পারেন।