আগামী ১২ মে অনুষ্ঠেয় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রার্থী বাছাইয়ে কঠোর ও ভিন্নধর্মী অবস্থান নিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটি এবার ‘পরিবারতন্ত্র’ এড়িয়ে চলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে— অর্থাৎ নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের স্ত্রী, কন্যা বা নিকটাত্মীয়দের সংরক্ষিত আসনে মনোনয়ন দেওয়া হচ্ছে না।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ভোটের অনুপাতে জামায়াত নেতৃত্বাধীন ‘১১ দলীয় ঐক্য’ মোট ১৩টি সংরক্ষিত আসন পাচ্ছে। এর মধ্যে ১১টি আসনে নিজেদের প্রার্থী চূড়ান্ত করেছে জামায়াত। বাকি দুটি আসনের একটি ন্যাশনাল কংগ্রেস পার্টি (এনসিপি)-কে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে, আরেকটি আসন জোটের অন্য শরিকদের মধ্যে বণ্টন নিয়ে আলোচনা চলছে।
জামায়াতের কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের জানান, দলটি অন্যদের মতো প্রকাশ্যে মনোনয়ন ফরম বিক্রি করে না। অভ্যন্তরীণ প্রক্রিয়ায় যাচাই-বাছাই শেষে ১১ জন প্রার্থীর তালিকা চূড়ান্ত করা হয়েছে।
এ বিষয়ে জোটের সমন্বয়ক ও সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, শুরু থেকেই দলের নীতি ছিল—নির্বাচিত এমপিদের পরিবারের কেউ যেন সংরক্ষিত আসনে মনোনয়ন না পান। সেই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
প্রার্থী বাছাইয়ের মানদণ্ড
জামায়াতের মহিলা বিভাগের সেক্রেটারি নুরুন্নেসা সিদ্দীকা জানান, প্রার্থী নির্বাচনে তৃণমূল থেকে কেন্দ্র পর্যন্ত মতামত নেওয়া হয়েছে। বিবেচনায় রাখা হয়েছে—
- সাংগঠনিক দক্ষতা
- সততা ও অভিজ্ঞতা
- প্রশাসনিক সক্ষমতা
- আইন প্রণয়ন ও জনগণের অধিকার রক্ষায় ভূমিকা রাখার যোগ্যতা
এই প্রক্রিয়ায় ১২ জনের একটি প্রাথমিক তালিকা থেকে ১১ জনকে চূড়ান্ত করা হয়েছে।
আলোচনায় সম্ভাব্য প্রার্থী
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকায় রয়েছেন কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের নারী নেত্রীরা, সাবেক ছাত্রনেত্রী এবং পেশাজীবীরা। আলোচনায় থাকা নামগুলোর মধ্যে রয়েছেন নুরুন্নেসা সিদ্দীকা, শিক্ষক মারদিয়া মমতাজ, আইনজীবী সাবিকুন্নাহার মুন্নী, ডা. হাবিবা চৌধুরী সুইট এবং ড. ফেরদৌস আরা বকুল।
নির্বাচনের প্রেক্ষাপট
নির্বাচন কমিশনের তফসিল অনুযায়ী, ৫০টি সংরক্ষিত নারী আসন সাধারণ আসনের অনুপাতে বণ্টন করা হবে। সে হিসেবে বিএনপি জোট পাবে ৩৬টি, জামায়াত জোট ১৩টি এবং স্বতন্ত্ররা একটি আসন পাবে।
মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ২১ এপ্রিল, যাচাই-বাছাই ২২ ও ২৩ এপ্রিল, প্রার্থিতা প্রত্যাহার ২৯ এপ্রিল এবং ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে ১২ মে।
দলীয় সূত্র বলছে, প্রার্থী তালিকা আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হবে জোটের বাকি আসন বণ্টন চূড়ান্ত হওয়ার পর।