বুধবার , ১লা জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ১৭ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ - বর্ষাকাল || ১৬ই মহর্‌রম, ১৪৪৮ হিজরি

সংবিধান সংস্কারেই ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান: ডা. শফিকুর রহমান

প্রকাশিত হয়েছে- সোমবার, ৬ এপ্রিল, ২০২৬

সংবিধান বাতিল নয়, বরং প্রয়োজনীয় সংস্কারের মাধ্যমে ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান জানিয়েছেন ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, সংবিধানের দোহাই দিয়ে যেন আর কখনো ফ্যাসিবাদের পুনরাবৃত্তি না ঘটে, সে লক্ষ্যে পরিবর্তন জরুরি।

রোববার (৫ এপ্রিল) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কখনোই সংবিধান ছুড়ে ফেলার কথা বলেনি; বরং সংবিধানের এমন ধারাগুলোর সংস্কার চায়, যেগুলো অতীতে ফ্যাসিবাদের জন্ম দিয়েছে।

তিনি দাবি করেন, তার দল সংবিধানবিরোধী নয়। বরং একটি ন্যায়ভিত্তিক ও ইনসাফপূর্ণ রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তুলতে তারা সংবিধানের প্রয়োজনীয় পরিবর্তন চায়।

বক্তব্যে তিনি গত ১৭ বছরে তার দলের ওপর দমন-পীড়নের অভিযোগ তুলে বলেন, সংসদের অনেক সদস্যই কোনো না কোনোভাবে নিপীড়নের শিকার হয়েছেন। ভবিষ্যতের বাংলাদেশ এমন হওয়া উচিত, যেখানে আইন ও সংবিধানের অপব্যবহার করে কোনো কর্তৃত্ববাদী শাসন প্রতিষ্ঠা করা যাবে না।

ডা. শফিকুর রহমান আরও বলেন, দেশের গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক ঘটনা—ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ, নব্বইয়ের গণঅভ্যুত্থান এবং সাম্প্রতিক আন্দোলন—সবকিছুকেই সম্মান জানিয়ে এগোতে হবে।

তিনি ‘জুলাই অভ্যুত্থান’-এর কথাও উল্লেখ করে বলেন, এসব ঘটনার চেতনা ধারণ করেই একটি নতুন বাংলাদেশ গড়তে হবে।

গণভোটের বিষয়ে তিনি বলেন, কোনো বিতর্ক ছাড়াই জনগণের রায় মেনে নেওয়ার সংস্কৃতি গড়ে তোলা প্রয়োজন। পাশাপাশি ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবরের ঘটনাকে উল্লেখ করে তিনি দাবি করেন, সেখান থেকেই দেশে ফ্যাসিবাদের সূচনা হয়েছিল।

এ সময় “মব কালচার” তৈরির দায় তার দলের ওপর চাপানোর সমালোচনা করে তিনি বলেন, ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি নিপীড়নের শিকার হওয়া একটি দলের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযোগ দুঃখজনক।

সংবিধান সংস্কারের প্রসঙ্গে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, “নতুন বাংলাদেশ” বলতে দেশের ভৌগোলিক বা রাষ্ট্রীয় কাঠামোর পরিবর্তন নয়; বরং এমন একটি শাসনব্যবস্থা গড়ে তোলা, যেখানে কোনো ব্যক্তি ক্ষমতার অপব্যবহার করে পার পাবে না এবং সব নাগরিক সমান অধিকার ভোগ করবে।

তার ভাষায়, লক্ষ্য একটাই—একটি বৈষম্যহীন, ন্যায়ভিত্তিক ও ফ্যাসিবাদমুক্ত রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা।