বুধবার , ১লা জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ১৭ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ - বর্ষাকাল || ১৬ই মহর্‌রম, ১৪৪৮ হিজরি

শ্রম সংশোধন আইন হলে মালিক–শ্রমিক বিরোধ বাড়বে: বিকেএমইএ

প্রকাশিত হয়েছে- সোমবার, ৬ এপ্রিল, ২০২৬

তৈরি পোশাক খাতের নিট ক্যাটাগরির উদ্যোক্তাদের সংগঠন বিকেএমইএ অভিযোগ করেছে, শ্রম সংশোধন অধ্যাদেশে অন্তর্ভুক্ত কিছু ধারা মালিক–শ্রমিক বিরোধ বাড়াবে এবং শিল্প উৎপাদন ও রপ্তানি ব্যাহত করবে।

রোববার (৫ এপ্রিল) রাজধানীর বাংলামটরে সংগঠনের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে মোহাম্মদ হাতেম এসব সমস্যার বিস্তারিত তুলে ধরেন। তিনি বলেন, অধ্যাদেশে শ্রমিকের সংজ্ঞা, যৌথ দর কষাকষিতে প্রতিনিধিত্ব, ভবিষ্যৎ তহবিল ও চাকরির অবসান সংক্রান্ত ধারা সমস্যা তৈরি করছে।

প্রধান অভিযোগসমূহ:

  • শ্রমিক সংজ্ঞা: উৎপাদনের সঙ্গে যুক্ত কর্মকর্তাদেরও ‘শ্রমিক’ হিসেবে ধরা হয়েছে। ফলে উচ্চ বেতনভোগী কর্মকর্তারাও সার্ভিস বেনিফিটসহ অন্যান্য সুযোগ দাবি করতে পারবেন।
  • চাকরির অবসান: স্থায়ী শ্রমিকদের জন্য মজুরি সময়সীমা পরিবর্তিত হয়েছে, যা পূর্বনির্ধারিত ট্রিপক্ষীয় পরামর্শক কমিটির (টিসিসি) সিদ্ধান্তের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
  • যৌথ দরকষাকষি: একটি কারখানায় একটি ট্রেড ইউনিয়নকেই দরকষাকষির প্রতিনিধি স্বীকৃতি পাবেন, যেখানে নির্বাচনের মাধ্যমে ৫১% শ্রমিক সমর্থনের শর্ত বাদ দেওয়া হয়েছে।
  • হয়রানি অভিযোগ: অধ্যাদেশ অনুযায়ী, মালিককে প্রমাণ করতে হবে যে শ্রমিকদের হয়রানি করা হয়নি, যা বিকেএমইএ ‘হাস্যকর’ বলে অভিহিত করেছে।
  • ভবিষ্যৎ তহবিল ও কল্যাণ: শ্রমিকদের জন্য ভবিষ্যৎ তহবিল, প্রসূতি কল্যাণসহ অন্যান্য ধারা উদ্যোক্তাদের জন্য কল্যাণকর নয়।

বিকেএমইএ সভাপতি বলেন, অধ্যাদেশ প্রণয়ন প্রক্রিয়া স্বচ্ছ হয়নি; বৈঠকের কার্যবিবরণী অংশগ্রহণকারীদের সঙ্গে শেয়ার করা হয়নি। তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং জাতীয় সংসদ সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানান, এই ধারা সংশোধন করতে।

সংস্থার মতে, আইন পাস হলে মালিক-শ্রমিক বিরোধ বাড়বে এবং রপ্তানিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।