বুধবার , ১লা জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ১৭ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ - বর্ষাকাল || ১৬ই মহর্‌রম, ১৪৪৮ হিজরি

শ্যামলীতে ঢাবি শিক্ষার্থী অপহরণ: ৯ সদস্যের চক্র গ্রেপ্তার, ৫০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দাবি

প্রকাশিত হয়েছে- বুধবার, ৩ জুন, ২০২৬

রাজধানীর শ্যামলী এলাকায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) এক শিক্ষার্থীকে অপহরণ ও ছিনতাইয়ের ঘটনায় সংঘবদ্ধ একটি চক্রের ৯ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। অপহরণের পর ভুক্তভোগীর পরিবারের কাছে ৫০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়েছিল বলে জানানো হয়েছে।

পুলিশ জানায়, গত ৩ জুন রাত ১১টার দিকে শ্যামলী বাসস্ট্যান্ড এলাকায় সাদমান সাকিব নামের ওই শিক্ষার্থীকে কয়েকজন ব্যক্তি দেশীয় অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে জিম্মি করে। পরে তাকে একটি সরু গলিতে নিয়ে গিয়ে তার মোবাইল ফোন, নগদ টাকা ও মানিব্যাগ ছিনিয়ে নেওয়া হয়।

পরবর্তীতে অপহরণকারীরা ভুক্তভোগীর মোবাইল ব্যবহার করে তার পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে বিকাশের মাধ্যমে ৫০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। ওই সময় এলাকায় টহলরত পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে অপহরণকারীরা আতঙ্কিত হয়ে পড়ে। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে মূল পরিকল্পনাকারী জাহিদ হোসেনকে ঘটনাস্থল থেকেই আটক করা হয়, তবে অন্যরা পালিয়ে যায়।

জিজ্ঞাসাবাদের ভিত্তিতে পরবর্তীতে আরও অভিযান চালিয়ে চক্রের বাকি ৮ সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারদের মধ্যে রয়েছে জাহিদ হোসেন, হোসাইন আহম্মদ ওরফে সিফাত, ইয়াছিন ওরফে আজমান, আরিফুল ইসলাম, মাহিম চৌধুরী আকাশ, সাকিব, সোহেল রানা, মো. নাঈম এবং মো. মর্তুজা তামিম।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, চক্রটি শ্যামলী, আদাবর ও মোহাম্মদপুর এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় ছিল। তারা বিশেষ করে একা চলাফেরা করা মানুষদের টার্গেট করে অপহরণ ও ছিনতাই করত এবং পরে পরিবারের কাছ থেকে মুক্তিপণ আদায় করত।

অপহরণের পর তারা ভুক্তভোগীর মোবাইল ফোন ব্যবহার করে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করত এবং বিকাশ বা এজেন্টের মাধ্যমে টাকা তুলে নিত। টাকা সংগ্রহের পর ভুক্তভোগীকে বিভিন্ন স্থানে ফেলে রেখে পালিয়ে যেত চক্রটি।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) জানিয়েছে, গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে এবং তাদের রিমান্ডে নিয়ে চক্রটির অন্য সদস্য বা আরও কোনো অপরাধে তাদের সম্পৃক্ততা আছে কি না তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।