বুধবার , ১লা জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ১৭ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ - বর্ষাকাল || ১৬ই মহর্‌রম, ১৪৪৮ হিজরি

শ্যামনগরে চামড়ার বাজারে ধস, বিক্রি না হওয়ায় নদীর পাড়ে ফেলে রাখছেন ব্যবসায়ীরা

প্রকাশিত হয়েছে- শুক্রবার, ২৯ মে, ২০২৬

সাতক্ষীরার শ্যামনগরে কোরবানিকৃত পশুর চামড়ার বাজারে চরম ধস নেমেছে। ক্রেতা না থাকায় উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে সংগ্রহ করা চামড়া বিক্রি করতে না পেরে নদীর পাড়ে ফেলে রাখছেন অনেকে। এতে বিপাকে পড়েছেন সাধারণ মানুষ, মৌসুমি ব্যবসায়ী এবং মাদরাসা-এতিমখানা কর্তৃপক্ষ।

শুক্রবার (২৮ মে) সকালে উপজেলার গাবুরা ইউনিয়ন থেকে আনা বেশ কিছু চামড়া বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়নের নীলডুমুর খেয়াঘাট এলাকায় খোলপেটুয়া নদীর পাড়ে স্তূপাকারে পড়ে থাকতে দেখা যায়। দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পরও কোনো ক্রেতা না পাওয়ায় এসব চামড়া সেখানে ফেলে রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

ঈদের দিন সকাল থেকে স্থানীয় ব্যবসায়ী, মাদরাসা ও এতিমখানার প্রতিনিধিরা বিভিন্ন এলাকা থেকে কোরবানির পশুর চামড়া সংগ্রহ করেন। কিন্তু দিনভর ঘুরেও আশানুরূপ দাম বা ক্রেতা না পাওয়ায় অধিকাংশ চামড়া অবিক্রিত থেকে যায়। পরে দুর্গন্ধ ছড়ানোর আশঙ্কায় কেউ মাটিতে পুঁতে ফেলছেন, আবার কেউ নদীর পাড়ে ফেলে রাখছেন।

স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, গত কয়েক বছরের তুলনায় এবার চামড়ার বাজার আরও খারাপ। আড়তদাররা কম দামে চামড়া কিনতে চাইলেও পরিবহন খরচ ও লবণের দাম বেড়ে যাওয়ায় লোকসানের ভয়ে অনেকেই চামড়া সংগ্রহে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।

বুড়িগোয়ালিনী ফরেস্ট জামে মসজিদের ইমাম ও বাগে জান্নাত হাফিজিয়া মাদরাসার খতিব হাফেজ রেজাউল করিম বলেন, “সারাদিন ও সারারাত অপেক্ষা করেও কেউ চামড়া নিতে আসেনি। পরে দুর্গন্ধ ছড়ানোর ভয়ে মাটিতে পুঁতে ফেলতে হচ্ছে।”

স্থানীয় মাদরাসা ও এতিমখানা কর্তৃপক্ষ বলছে, প্রতিবছর কোরবানির চামড়া বিক্রির অর্থ দিয়ে শিক্ষার্থীদের খরচের একটি অংশ পরিচালনা করা হয়। কিন্তু এবার চামড়ার ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় তারা আর্থিক সংকটে পড়েছেন।

এদিকে সরকার কাঁচা চামড়ার দাম নির্ধারণ করলেও মাঠপর্যায়ে তার বাস্তব প্রতিফলন নেই বলে অভিযোগ উঠেছে। ব্যবসায়ীদের দাবি, সংরক্ষণ ব্যবস্থা ও পর্যাপ্ত আড়তের অভাবে বাজারে বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়েছে।

শ্যামনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শামসুদ্দুজ্জামান কনক বলেন, কোরবানির আগে এতিমখানা কর্তৃপক্ষকে চামড়া সংরক্ষণ করে পরে বিক্রির পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল। তবে এভাবে চামড়া নষ্ট করার বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখা হচ্ছে।