বুধবার , ১লা জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ১৭ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ - বর্ষাকাল || ১৬ই মহর্‌রম, ১৪৪৮ হিজরি

শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হকের মৃত্যুবার্ষিকীতে রাষ্ট্রপতির শ্রদ্ধা

প্রকাশিত হয়েছে- সোমবার, ২৭ এপ্রিল, ২০২৬

উপমহাদেশের বরেণ্য রাজনীতিবিদ ও ‘বাংলার বাঘ’ নামে খ্যাত এ কে ফজলুল হক-এর ৬৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে গভীর শ্রদ্ধা জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। এক বাণীতে তিনি বলেন, শেরে বাংলা ছিলেন অসাধারণ প্রজ্ঞাবান, সাহসী ও বিচক্ষণ এক রাজনীতিবিদ, যিনি সারাজীবন গণমানুষের কল্যাণে কাজ করে গেছেন।

রাষ্ট্রপতি উল্লেখ করেন, বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনে ফজলুল হক বহু গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি বঙ্গীয় আইন পরিষদের সদস্য, সর্বভারতীয় মুসলিম লীগের সভাপতি, কলকাতার মেয়র, অবিভক্ত বাংলার প্রথম মুখ্যমন্ত্রী এবং পরবর্তীতে পূর্ব বাংলার মুখ্যমন্ত্রী ও গভর্নর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

দক্ষ রাজনীতিবিদ ও সমাজসেবক হিসেবে প্রায় অর্ধশতাব্দীরও বেশি সময় ধরে তিনি কৃষক, শ্রমিক ও সাধারণ মানুষের অধিকার আদায়ে কাজ করেছেন। ১৯৩৬ সালে তিনি কৃষক প্রজা পার্টি এবং ১৯৫৩ সালে শ্রমিক-কৃষক দল প্রতিষ্ঠা করেন, যা এ অঞ্চলের রাজনীতিতে নতুন ধারা সৃষ্টি করে।

রাষ্ট্রপতি তার বাণীতে আরও বলেন, অবিভক্ত বাংলার মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে ফজলুল হক শিক্ষার প্রসার, সামাজিক সংস্কার এবং কৃষক-শ্রমিকের অধিকার প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। তার উদ্যোগে গঠিত ঋণ সালিশি বোর্ড শোষিত কৃষকদের ঋণের বোঝা কমাতে কার্যকর ভূমিকা পালন করে।

এছাড়া প্রজাস্বত্ব আইন, মহাজনি আইন এবং দোকান কর্মচারী আইনসহ বিভিন্ন জনকল্যাণমুখী আইন প্রণয়নের মাধ্যমে তিনি অবহেলিত জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে অবদান রাখেন।

রাষ্ট্রপতি আরও স্মরণ করেন, ১৯৪০ সালের ২৩ মার্চ লাহোর প্রস্তাব উত্থাপনের মাধ্যমে ফজলুল হক উপমহাদেশের মুসলমানদের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। এই প্রস্তাবের মধ্যেই পরবর্তীকালে স্বাধীন বাংলাদেশের স্বপ্ন ও দিকনির্দেশনার বীজ নিহিত ছিল।

রাষ্ট্রপতি আশাবাদ ব্যক্ত করেন, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্ম শেরে বাংলার আদর্শ অনুসরণ করে একটি ন্যায়ভিত্তিক, মানবিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনে ভূমিকা রাখবে।