আসন্ন উপনির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপ ছড়িয়ে পড়েছে শেরপুর-৩ আসনে। আগামী ৯ এপ্রিল অনুষ্ঠিতব্য এই নির্বাচনে অংশ নিতে ইতোমধ্যেই প্রার্থীরা ব্যাপক প্রচারণায় নেমেছেন, যার ফলে পুরো এলাকা এখন নির্বাচনী আমেজে মুখর।
এর আগে গত ৩ ফেব্রুয়ারি জামায়াত মনোনীত প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদল–এর মৃত্যুতে নির্বাচন স্থগিত করা হয়। পরবর্তীতে নির্বাচন কমিশন পুনঃতফসিল ঘোষণা করে নতুন করে নির্বাচনের আয়োজন করে।
বর্তমানে এই আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বিএনপি মনোনীত মাহমুদুল হক রুবেল, জামায়াত সমর্থিত মাসুদুর রহমান মাসুদ এবং বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল–এর প্রার্থী মিজানুর রহমান।
মাঠপর্যায়ে দেখা যাচ্ছে, মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে উঠেছে বিএনপি ও জামায়াত প্রার্থীর মধ্যে। উভয় পক্ষই নিজেদের অবস্থান শক্ত করতে দিন-রাত প্রচারণা চালাচ্ছেন। ভোটারদের দ্বারে দ্বারে গিয়ে উন্নয়ন, পরিবর্তন ও জনসেবার নানা প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন তারা।
বিএনপি প্রার্থী মাহমুদুল হক রুবেল এবার ভিন্ন কৌশল নিয়েছেন। দলীয় নেতাকর্মীদের পাশাপাশি তার পরিবারের সদস্যরাও সরাসরি প্রচারণায় অংশ নিচ্ছেন। তার স্ত্রী ফরিদা হক দীপা ও মেয়ে রুবাইদা হক রিমঝিম উঠান বৈঠকের মাধ্যমে নারী ভোটারদের কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা করছেন, আর ছেলে তরুণ ভোটারদের আকৃষ্ট করতে সক্রিয় ভূমিকা রাখছেন।
অন্যদিকে জামায়াত প্রার্থী মাসুদুর রহমান মাসুদ তার প্রয়াত ভাইয়ের রাজনৈতিক প্রভাব ও সংগঠনকে কাজে লাগিয়ে শক্ত অবস্থান গড়ে তুলেছেন। ভোটারদের একাংশ মনে করছেন, এই আসনে পরিবর্তনের বার্তা দিতে পারে জামায়াত।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘদিন পর এই আসনে বিএনপি নিজেদের অবস্থান পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করছে, অন্যদিকে জামায়াত তাদের সুসংগঠিত ভোটব্যাংক নিয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছে। ফলে নির্বাচনটি অত্যন্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হতে যাচ্ছে।
এ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ১৩ হাজার ৩৭৭ জন, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য অংশ নারী ভোটার। এই ভোটব্যাংককে কেন্দ্র করে প্রচারণায় নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে।
জাহাঙ্গীর হোসেন, জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও রিটার্নিং কর্মকর্তা জানান, মোট ১২৮টি ভোটকেন্দ্রে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে পাহাড়ি ও দুর্গম এলাকার ৩২টি কেন্দ্রকে বিশেষ নজরদারিতে রাখা হয়েছে। সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীসহ সব প্রস্তুতি সম্পন্ন।
সব মিলিয়ে, রাজনৈতিক হিসাব-নিকাশ, তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা এবং ভোটারদের আগ্রহ—সবকিছু মিলিয়ে শেরপুর-৩ উপনির্বাচন এখন জাতীয় রাজনীতির অন্যতম আলোচিত ইস্যুতে পরিণত হয়েছে।