বুধবার , ১লা জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ১৭ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ - বর্ষাকাল || ১৬ই মহর্‌রম, ১৪৪৮ হিজরি

“শৃঙ্খলার বাইরে দেশের পরিবহন খাত: সংস্কার, ফ্র্যাঞ্চাইজি ব্যবস্থা ও কঠোর নজরদারির দাবি”

প্রকাশিত হয়েছে- বুধবার, ৮ এপ্রিল, ২০২৬

বাংলাদেশের সড়ক পরিবহন খাত এখনও পুরোপুরি নিয়মতান্ত্রিক কাঠামোর মধ্যে আসেনি বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির মহাসচিব মো. সাইফুল আলম। তিনি বলেছেন, দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনার কারণে যাত্রীসেবা, ভাড়া নির্ধারণ এবং যানবাহন পরিচালনায় নানা অসঙ্গতি এখনো বিদ্যমান।

বুধবার (৮ এপ্রিল) রাজধানীর কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউয়ে সংগঠনের কার্যালয়ে রিপোর্টার্স ফর রেল অ্যান্ড রোড (আরআরআর)-এর সদস্যদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

সাইফুল আলম জানান, পরিবহন খাতে শৃঙ্খলা ফেরাতে প্রশাসনিকভাবে কঠোর সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং তার কার্যকর বাস্তবায়ন অত্যন্ত জরুরি। পাশাপাশি পরিবেশবান্ধব গণপরিবহন চালু করতে ইলেকট্রিক বাস ও উন্নতমানের রিকন্ডিশন্ড বাস আমদানিতে কর ছাড় বা বিশেষ প্রণোদনা দেওয়ার ওপর জোর দেন তিনি। এতে একদিকে যেমন যাত্রীসেবার মান উন্নত হবে, অন্যদিকে পরিবেশ দূষণও কমানো সম্ভব হবে।

তিনি আরও বলেন, গণপরিবহনে দীর্ঘদিনের বিশৃঙ্খলা দূর করতে ফ্র্যাঞ্চাইজি ভিত্তিক ব্যবস্থায় যাওয়ার বিকল্প নেই। এই পদ্ধতিতে নির্দিষ্ট রুটে নির্দিষ্ট সংখ্যক বাস একটি প্রতিষ্ঠানের অধীনে পরিচালিত হবে। এতে চালকদের প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করা যাবে, যাত্রীরা নির্ধারিত স্টপেজ থেকে সুশৃঙ্খলভাবে ওঠানামা করতে পারবে এবং ই-টিকিটিং চালু করা সম্ভব হবে। পরীক্ষামূলকভাবে একটি রুটে ২০০ থেকে ৫০০ বাস দিয়ে এ ধরনের ব্যবস্থা চালু করা যেতে পারে বলেও তিনি মত দেন।

ঢাকার বিভিন্ন বাস টার্মিনালে প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত বাস অবস্থান করছে, যা সড়কে যানজট বৃদ্ধির অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি। অনেক ক্ষেত্রে নির্ধারিত টার্মিনালের বাইরে সড়ক কিংবা আবাসিক এলাকায় বাস পার্কিং করা হচ্ছে, যা নগরজীবনে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে। এ সমস্যা সমাধানে রোটেশনভিত্তিক বাস পরিচালনার প্রস্তাব দেন তিনি। এতে নির্দিষ্ট সংখ্যক বাস টার্মিনালে থাকবে এবং বাকি বাসগুলো নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী চলাচল করবে।

এছাড়া টার্মিনাল এলাকাগুলোতে অবৈধ দোকানপাট, টোকেন বাণিজ্য এবং প্রভাবশালীদের দখলদারিত্ব পরিবহন খাতের বিশৃঙ্খলার বড় কারণ বলে উল্লেখ করেন সাইফুল আলম। এসব কার্যক্রমের আড়ালে চাঁদাবাজি, টিকিট কালোবাজারি এবং যাত্রী হয়রানির ঘটনা ঘটছে। অনেক ক্ষেত্রে ভুয়া কাউন্টার স্থাপন করে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

তিনি বলেন, এসব অনিয়ম বন্ধে ইতোমধ্যে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে এবং প্রশাসনের সহযোগিতায় অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। একইসঙ্গে পরিবহন খাতে মালিক-শ্রমিক উভয় পক্ষের কিছু অনিয়মের কথাও স্বীকার করেন তিনি।

সবশেষে তিনি বলেন, কেবল মালিকদের একক উদ্যোগে এই খাতে শৃঙ্খলা আনা সম্ভব নয়। পুলিশ, সিটি কর্পোরেশন এবং সংশ্লিষ্ট সব সংস্থার সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমেই একটি কার্যকর ও সুশৃঙ্খল পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব।

সভায় বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির কার্যকরী সভাপতি এম এ বাতেন, রিপোর্টার্স ফর রেল অ্যান্ড রোডের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং সাধারণ সম্পাদক মো. তাওহীদুল ইসলামসহ অন্যান্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।