সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী ও জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য মোহাম্মদ শিশির মনির বলেছেন, দেশের প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষ গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়েছেন। সেই রায় উপেক্ষা করা হলে তা জাতির সঙ্গে প্রতারণার সমতুল্য হবে। যারা গণভোটের ফল মানবেন না, তাদের তিনি ‘মুনাফেক’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।
রোববার (৫ এপ্রিল) দুপুরে বগুড়ায় ইসলামী ছাত্রশিবির আয়োজিত ‘জনরায় উপেক্ষা নয়, গণভোট বাস্তবায়নে সরকারের দায়বদ্ধতা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিশির মনির এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, বিএনপি ৫১ শতাংশ ভোটের ভিত্তিতে সরকার গঠন করেছে। কিন্তু গণভোটে হ্যাঁ ভোটে সংখ্যাগরিষ্ঠতার ফল উপেক্ষা করলে তা গ্রহণযোগ্য হবে না। তিনি আরও উল্লেখ করেন, দীর্ঘ ৫৬ বছর সঠিক নেতৃত্বের অভাবে বাংলাদেশ কাঙ্ক্ষিত উন্নয়নে পৌঁছাতে পারেনি। সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে নানা সময়ে জনগণ ভোগান্তিতে পড়েছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট তরুণদের আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন সৃষ্টি হলেও বর্তমান সরকার তা বাস্তবায়নে সঠিক পথে এগোতে পারছে না।
শিশির মনির সরকারের সমালোচনা করে বলেন, বর্তমান সরকার আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে কাজ করতে পারছে না এবং অদৃশ্য কোনো শক্তির প্রভাবে পরিচালিত হচ্ছে বলে মনে হচ্ছে। জনগণের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতি পূরণ করতে না পারলে সরকারের ভবিষ্যৎ ভালো হবে না।
তিনি আরও বলেন, সংসদের ভেতরে ও বাইরে সরকারকে সহযোগিতা করা হবে, তবে গণভোটের রায় উপেক্ষা করলে সর্বত্র প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে। রাজধানীর বায়তুল মুকাররমের উত্তর গেটে শুরু হওয়া বিক্ষোভ কর্মসূচি এই আন্দোলনের প্রাথমিক দিকমাত্র।
শিশির মনির জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশকে অশ্বডিম্ব হিসেবে উপহাস করার প্রসঙ্গে বলেন, “যদি এটি সত্যিই অশ্বডিম্ব হয়, তাহলে গণভোট কেন আয়োজন করা হলো?” তিনি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ১৯৭৭ সালের গণভোটের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটও তুলে ধরেন।
বিএনপিকে উদ্দেশ্য করে শিশির মনির বলেন, যারা ৫১ শতাংশ ভোট দিয়ে সরকার গঠন করেছেন, তারা কি ভোটের বিষয়গুলো পুরোপুরি বুঝে ভোট দিয়েছেন? একইভাবে ৭০ শতাংশ মানুষও গণভোটের প্রশ্নগুলো বুঝে হ্যাঁ ভোট দিয়েছে।
সভার সভাপতিত্ব করেন ইসলামী ছাত্রশিবির বগুড়া শহর শাখার সভাপতি হাবিবুল্লাহ খন্দকার। সভায় বক্তব্য রাখেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী জোবাইদুর রহমান বাবু, সাকিল আহম্মেদ এবং বগুড়া বার অ্যাসোসিয়েশনের আইনজীবী আল-আমিন।