জাতীয় সংসদে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) এবং অন্যান্য সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান নিয়ে কড়া সমালোচনা করেছেন কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ। তিনি অভিযোগ করেন, দেশের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানগুলোকে “নগ্নভাবে দলীয়করণ” করা হচ্ছে এবং বিসিবি তার স্বতন্ত্রতা হারিয়েছে।
বুধবার (৮ এপ্রিল) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের ১১তম দিনের বিকেলের অধিবেশনে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান (সুরক্ষা ও দায় নির্ধারণ) আইন, ২০২৬’ বিল উত্থাপনের পর বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
বিসিবি নিয়ে তীব্র মন্তব্য
হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন,
“বিসিবি এখন আর বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড নেই। এটি ‘বাপের দোয়া ক্রিকেট বোর্ডে’ পরিণত হয়েছে।”
তার এই মন্তব্যে সংসদে আলোচনা ও প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। তিনি দাবি করেন, শুধু বিসিবিই নয়, অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানেও একই ধরনের দলীয় প্রভাব বিস্তার করা হয়েছে।
সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান নিয়ে অভিযোগ
তিনি বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান ইতোমধ্যেই রাজনৈতিক প্রভাবের মধ্যে চলে গেছে। এর ফলে এসব প্রতিষ্ঠানের নিরপেক্ষতা ও জবাবদিহিতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
মানবাধিকার কমিশন নিয়ে উদ্বেগ
বক্তব্যে তিনি ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান’ সংশ্লিষ্ট বিলের বিভিন্ন দিক নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। বিশেষ করে, বিল অনুযায়ী তদন্তের দায়িত্ব জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের ওপর ন্যস্ত করার বিষয়টি নিয়ে তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
তার মতে,
- “সংকীর্ণ বা ব্যক্তিগত স্বার্থে সংঘটিত হত্যাকাণ্ড” এবং
- “রাজনৈতিক প্রতিরোধের অংশ হিসেবে সংঘটিত কার্যক্রম”—
এই দুইয়ের মধ্যে পার্থক্য নির্ধারণ করবে মানবাধিকার কমিশন, যা একটি গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল দায়িত্ব।
নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন
হাসনাত আবদুল্লাহ আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, যদি মানবাধিকার কমিশন সরকার নিয়ন্ত্রিত থাকে, তাহলে তদন্ত প্রক্রিয়া প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে। তিনি অতীতে কমিশনের ভূমিকা নিয়েও সমালোচনা করেন এবং দাবি করেন, বিরোধী মত দমন ও ভিকটিম ব্লেমিংয়ের অভিযোগ রয়েছে।
স্বায়ত্তশাসনের দাবি
তিনি জোর দিয়ে বলেন, এই বিল কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করতে হলে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনকে অবশ্যই স্বাধীন ও স্বায়ত্তশাসিত হতে হবে। অন্যথায়, এটি একটি পক্ষপাতদুষ্ট প্রতিষ্ঠানে পরিণত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।
উপসংহার
সংসদে দেওয়া এই বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে, ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান’ সংশ্লিষ্ট আইন শুধু রাজনৈতিক নয়, বরং প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো, জবাবদিহিতা এবং নিরপেক্ষতা নিয়েও বড় ধরনের বিতর্ক তৈরি করেছে। বিশেষ করে বিসিবি ও মানবাধিকার কমিশন নিয়ে উত্থাপিত প্রশ্নগুলো ভবিষ্যতে আরও আলোচনার জন্ম দিতে পারে।