বৃহস্পতিবার , ২রা জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ১৮ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ - বর্ষাকাল || ১৭ই মহর্‌রম, ১৪৪৮ হিজরি

শিবগঞ্জে পরকীয়া সম্পর্ক দেখে ফেলায় যুবককে হত্যা, দুইজনের স্বীকারোক্তি

প্রকাশিত হয়েছে- মঙ্গলবার, ২৬ মে, ২০২৬

বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলায় মামীর সঙ্গে অবৈধ সম্পর্ক দেখে ফেলায় এক যুবককে হত্যার ঘটনায় চাঞ্চল্যকর তথ্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় জড়িত অভিযোগে দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং তারা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন নিহত শাহ আলমের মামী আরিফা বেগম (৩২) এবং তার পরকীয়া প্রেমিক শাহীন মিয়া (৪৫)। শিবগঞ্জ থানা পুলিশ গত সোমবার রাতে পৃথক অভিযান চালিয়ে তাদের নিজ নিজ বাড়ি থেকে আটক করে।

মঙ্গলবার (২৬ মে) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করেন শিবগঞ্জ সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার রবিউল ইসলাম।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার বিহার ইউনিয়নের দোবিলা গ্রামে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। গত ১৬ মে সকালে স্থানীয় একটি ফসলি জমি থেকে শাহ আলমের রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। মরদেহের মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়, যা ঘটনাটিকে শুরু থেকেই রহস্যজনক করে তোলে।

প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জানায়, নিহত শাহ আলমের মামী আরিফা বেগমের সঙ্গে শাহীন মিয়ার দীর্ঘদিন ধরে পরকীয়া সম্পর্ক ছিল। স্বামী বাড়ির বাইরে থাকলে তাদের গোপন যোগাযোগ ও সাক্ষাৎ চলত বলে অভিযোগ ওঠে। বিষয়টি শাহ আলম আগে থেকেই জানতে পেরে পরিবারকে সতর্ক করেছিলেন বলেও জানা যায়।

ঘটনার রাতে পুনরায় শাহীন আরিফার ঘরে প্রবেশ করলে বিষয়টি টের পান শাহ আলম। পরে তিনি হাতে হাসুয়া নিয়ে বাড়ির বাইরে অবস্থান নেন। ওই সময় আরিফা গেট খুলে শাহীনকে পালিয়ে যেতে সহায়তা করেন। এতে শাহ আলম তাদের একসঙ্গে দেখে ফেললে বাকবিতণ্ডা ও ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে।

একপর্যায়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে শাহীন মিয়ার হাতে থাকা হাসুয়া কেড়ে নিয়ে শাহ আলমকে উপর্যুপরি কুপিয়ে হত্যা করা হয় বলে পুলিশ জানায়। পরে মরদেহ ফসলি জমিতে ফেলে রেখে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায় তারা।

পুলিশ আরও জানায়, তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার ও বিভিন্ন আলামত বিশ্লেষণের মাধ্যমে দ্রুত সময়ের মধ্যেই ঘটনার রহস্য উদঘাটন করা সম্ভব হয়। এরপর অভিযুক্ত দুজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে হাজির করা হলে তারা স্বেচ্ছায় হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে জবানবন্দি প্রদান করেন।

শিবগঞ্জ সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার রবিউল ইসলাম বলেন, তদন্তের স্বার্থে আরও তথ্য যাচাই করা হচ্ছে এবং ঘটনার সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত আছে কিনা তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।