বৃহস্পতিবার , ২রা জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ১৮ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ - বর্ষাকাল || ১৭ই মহর্‌রম, ১৪৪৮ হিজরি

শিনজো আবে হত্যাকাণ্ডে রায়: ঘাতক তেতসুয়া ইয়ামাগামির যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

প্রকাশিত হয়েছে- বুধবার, ২১ জানুয়ারি, ২০২৬

জাপানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবেকে হত্যার দায়ে তেতসুয়া ইয়ামাগামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন দেশটির আদালত। বুধবার (২১ জানুয়ারি) ৪৫ বছর বয়সী এই আসামির বিরুদ্ধে বহুল আলোচিত হত্যাকাণ্ডের রায় ঘোষণা করা হয়।

২০২২ সালের ৮ জুলাই জাপানের পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষের নির্বাচনে এক প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণা চালাতে দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর নারা সফরে যান শিনজো আবে। সেখানে প্রকাশ্য জনসভায় বক্তব্য দেওয়ার সময় পেছন থেকে তাকে গুলি করেন তেতসুয়া ইয়ামাগামি। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় জাপানসহ বিশ্বজুড়ে গভীর শোক ও বিস্ময়ের সৃষ্টি হয়।

আদালতে রাষ্ট্রপক্ষ তেতসুয়ার জন্য যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আবেদন জানিয়ে বলেন, জাপানের যুদ্ধপরবর্তী ইতিহাসে এটি একটি নজিরবিহীন হত্যাকাণ্ড। এই ঘটনা দেশটির রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও সামাজিক নিরাপত্তায় গভীর প্রভাব ফেলেছে বলে মন্তব্য করেন প্রসিকিউটররা।

অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী তেতসুয়ার জন্য সর্বোচ্চ ২০ বছরের কারাদণ্ড চেয়ে আবেদন করেন। তবে আদালত রাষ্ট্রপক্ষের যুক্তিকে গ্রহণ করে তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন।

তদন্তে উঠে আসে, তেতসুয়ার মা বিতর্কিত ইউনিফিকেশন চার্চের একজন অনুসারী ছিলেন এবং সেখানে নিজের প্রায় সব সম্পদ দান করে দেওয়ায় পরিবারটি নিঃস্ব হয়ে পড়ে। এতে তেতসুয়া দীর্ঘদিন আর্থিক সংকটে ভোগেন। তিনি বিশ্বাস করতেন, ওই চার্চের সঙ্গে শিনজো আবের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। এ থেকেই সাবেক প্রধানমন্ত্রীর প্রতি তার ক্ষোভ জন্ম নেয়।

তদন্ত কর্মকর্তারা জানান, দীর্ঘদিন সুযোগের অপেক্ষায় থাকা তেতসুয়া নিজ হাতে দুটি পাইপ ও ডাক টেপ ব্যবহার করে একটি অস্ত্র তৈরি করেন। নারা শহরের ওই নির্বাচনী সভায় সেই অস্ত্র দিয়েই তিনি শিনজো আবেকে লক্ষ্য করে দুটি গুলি করেন।

এই রায়ের মাধ্যমে জাপানের ইতিহাসের অন্যতম আলোচিত রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডের বিচারিক প্রক্রিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় শেষ হলো বলে মন্তব্য করেছেন বিশ্লেষকরা।