শনিবার , ২৫শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ১০ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ - বর্ষাকাল || ১১ই সফর, ১৪৪৮ হিজরি

‘শিক্ষার্থীদের দেশের শত্রু ভাবছে মোদি সরকার’—বিক্ষোভ দমনে কেন্দ্রকে সোনিয়ার তীব্র আক্রমণ

প্রকাশিত হয়েছে- শুক্রবার, ২৪ জুলাই, ২০২৬

ভারতে চলমান শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ এবং তা মোকাবিলায় সরকারের ভূমিকা নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের তীব্র সমালোচনা করেছেন কংগ্রেস সংসদীয় দলের চেয়ারপার্সন সোনিয়া গান্ধী। তিনি অভিযোগ করেছেন, মোদি সরকার আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম হিসেবে না দেখে ‘দেশের শত্রু’ হিসেবে বিবেচনা করছে।

শুক্রবার (২৪ জুলাই) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য হিন্দু-তে প্রকাশিত এক নিবন্ধে সোনিয়া গান্ধী বলেন, শিক্ষার্থীরা প্রশ্নপত্র ফাঁস, জবাবদিহিতা এবং শিক্ষাব্যবস্থার সংস্কারের দাবি তুলেছে। কিন্তু তাদের দাবির জবাবে সরকার ‘কাপুরুষতা ও উদ্দেশ্যহীন নিষ্ঠুরতা’ দেখিয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

সোনিয়ার দাবি, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ভারতের বিভিন্ন স্থানে শিক্ষার্থীদের শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ আরও জোরালো হয়েছে। বিশেষ করে গত ২০ জুলাই দিল্লিতে আন্দোলনকারীদের ওপর পুলিশ ও কেন্দ্রীয় সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাস ব্যবহারের অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, এতে অনেক বিক্ষোভকারী আহত হয়েছেন।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, বিক্ষোভ থেকে বাড়ি ফেরার সময়ও অনেক শিক্ষার্থী পুলিশের লাঠিচার্জ থেকে রেহাই পাননি। এমনকি কিছু তরুণের শরীরে পেলেটের আঘাতের কথাও উল্লেখ করেন তিনি।

সোনিয়া গান্ধী বলেন, শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সরকারের আচরণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তার ভাষায়, ‘থামুন, এরা আমাদেরই ছেলেমেয়ে, আমাদেরই তরুণ-তরুণী।’

কংগ্রেসের এই নেত্রী আরও অভিযোগ করেন, শিক্ষাব্যবস্থার অবনতির প্রতিবাদে আন্দোলন করা শিক্ষার্থীদের ওপর দমন-পীড়ন চালিয়ে সরকার নিজেদের ব্যর্থতা আড়াল করতে চাইছে। তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়ানো এবং তাদের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করা সরকারের নৈতিক, রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক দায়িত্ব।

সোনিয়া গান্ধী একই সঙ্গে ২০২০ সালের সিএএ-এনআরসি বিরোধী আন্দোলন এবং নারী কুস্তিগীরদের আন্দোলনের প্রসঙ্গ তুলে কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে অতীতেও আন্দোলনকারীদের ওপর কঠোর আচরণের অভিযোগ তোলেন। তাঁর বক্তব্য ঘিরে ভারতের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।