নির্বাচন কমিশনার (ইসি) আনোয়ারুল ইসলাম জানিয়েছেন, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) তাদের নির্বাচনী প্রতীক হিসেবে শাপলা চেয়েছিল, তবে নির্বাচন কমিশন সাংবিধানিক বিধি ও আইন অনুযায়ী তা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। নির্বাচন কমিশন একটি সংবিধানিক প্রতিষ্ঠান, তাই তারা আইনসীমার বাইরে গিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারে না। এনসিপি সাতটি শাপলার নমুনা কমিশনের কাছে উপস্থাপন করলেও, কমিশন এ বিষয়ে কোনোরকম ছাড় দিতে রাজি হয়নি।
আনোয়ারুল ইসলাম আরও বলেন, নির্বাচন কমিশন সব সময় আইন ও বিধি মেনে কাজ করে এবং তা নিশ্চিত করে যে নির্বাচন প্রক্রিয়া স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু হবে। তিনি আশা করেন, আগামী রমজানের আগে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। সব নির্বাচনী প্রস্তুতি সম্পন্ন রয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি কোনোভাবে নির্বাচনে চ্যালেঞ্জ তৈরি করবে না।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এনসিপি’র শাপলা প্রতীক পাওয়ার দাবির সঙ্গে সংযুক্ত রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা এবং প্রতীকভিত্তিক রাজনৈতিক সাংকেতিক গুরুত্বের কারণে বিষয়টি সাধারণ নির্বাচন প্রক্রিয়ার চেয়ে বেশি আলোচিত হয়েছে। প্রতীকভিত্তিক রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা বাংলাদেশে দীর্ঘদিনের একটি প্রথা, যা ভোটারদের কাছে দলীয় পরিচয় ও রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি বোঝার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবে কাজ করে।
এনসিপি’র পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তারা কমিশনের সিদ্ধান্তকে সম্মান করবে এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করবে। তবে, শাপলা প্রতীক না পাওয়ায় কিছু সমর্থক মাঝে মাঝে হতাশা প্রকাশ করেছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, প্রতীক না পাওয়া দলটির নির্বাচনী কৌশলে প্রভাব ফেলতে পারে, তবে ভোট প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও আইনগত বাধ্যবাধকতা নির্বাচনের মূল সঠিকতা নিশ্চিত করছে।
নির্বাচন কমিশন নিশ্চিত করেছে যে, সকল নির্বাচনী প্রার্থীর জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করা হচ্ছে এবং কোনো দল বা প্রার্থীকে আইনের বাইরে সুবিধা দেওয়া হবে না। আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, “আমরা একটি সংবিধানিক প্রতিষ্ঠান। আমাদের দায়িত্ব হলো আইন মেনে নির্বাচন প্রক্রিয়া পরিচালনা করা। আইন অনুযায়ী কাজ না করলে নির্বাচন নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু হবে না।”
সর্বশেষ, তিনি সকল রাজনৈতিক দলকে আহ্বান জানিয়েছেন যে, তারা আইনের মধ্যে থেকে নির্বাচন প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করুন এবং ভোটারদের কাছে নিজেদের কার্যক্রম তুলে ধরুন। কমিশন নিশ্চিত করছে, নির্বাচন যথাসময়ে অনুষ্ঠিত হবে এবং দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া শক্তিশালী হবে। এ ধরনের নির্দেশনা ও প্রজ্ঞাপন প্রমাণ করে যে, কমিশন রাজনৈতিক চাপ ও প্রতিকূলতার মধ্যে থেকেও সংবিধান ও আইনের প্রতি অটল রয়েছে।