মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেছেন আলী আবদুল্লাহি ও মোজতবা খামেনি। ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর একীভূত কমান্ডের প্রধান এবং খতম আল-আনবিয়া কেন্দ্রীয় সদরদপ্তরের কমান্ডার আলী আবদুল্লাহি দেশটির সর্বোচ্চ নেতার সঙ্গে সাক্ষাৎ করে সামরিক প্রস্তুতি, সম্ভাব্য সংঘাত এবং শত্রু মোকাবিলায় নতুন নির্দেশনা গ্রহণ করেছেন বলে জানিয়েছে ইরানের আধা-সরকারি সংবাদমাধ্যম ফারস নিউজ এজেন্সি।
রোববার প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, বৈঠকে ইরানের সামরিক সক্ষমতা ও বর্তমান আঞ্চলিক পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। আলী আবদুল্লাহি সর্বোচ্চ নেতাকে সশস্ত্র বাহিনীর সার্বিক প্রস্তুতির বিষয়ে অবহিত করেন। যদিও বৈঠকটি ঠিক কবে অনুষ্ঠিত হয়েছে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো তথ্য জানানো হয়নি।
বৈঠকের পর দেওয়া বক্তব্যে আলী আবদুল্লাহি বলেন, “আমেরিকান-ইহুদিবাদী শত্রুদের যেকোনো পদক্ষেপ মোকাবিলায় ইরানের সশস্ত্র বাহিনী সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে। শত্রুপক্ষ কোনো ভুল করলে দ্রুত, কঠোর ও চূড়ান্ত জবাব দেওয়া হবে।”
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম Al Jazeera জানিয়েছে, এই বৈঠক অন্তত দুই কারণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রথমত, দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে মোজতবা খামেনিকে জনসমক্ষে খুব কম দেখা গেছে এবং তার পক্ষ থেকে মূলত লিখিত বিবৃতি প্রকাশিত হচ্ছিল। এমন পরিস্থিতিতে উচ্চপর্যায়ের সামরিক বৈঠকের খবর নতুন করে গুরুত্ব পেয়েছে।
দ্বিতীয়ত, বৈঠকের মূল আলোচ্য বিষয় ছিল যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সম্ভাব্য পদক্ষেপ মোকাবিলায় সামরিক প্রস্তুতি ও কৌশল। ফারস নিউজের ভাষ্যমতে, আলোচনা সংঘাতমূলক পরিস্থিতিতে সতর্কতা, প্রতিরক্ষা সক্ষমতা এবং প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান নিশ্চিত করার ওপর কেন্দ্রীভূত ছিল।
ইরানের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, সর্বোচ্চ নেতা সেনাবাহিনীকে “দৃঢ়ভাবে শত্রু মোকাবিলা” করার নির্দেশ দিয়েছেন এবং চলমান উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতিতে নতুন কিছু কৌশলগত পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশনাও দিয়েছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, এই বৈঠক এমন এক সময়ে অনুষ্ঠিত হলো যখন মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা ক্রমাগত বাড়ছে এবং ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে। একই সঙ্গে ইসরায়েলকে ঘিরেও আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও সংবেদনশীল হয়ে উঠেছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, ইরানের সামরিক নেতৃত্ব ও সর্বোচ্চ নেতার এই ধরনের বৈঠক সাধারণত বড় ধরনের নিরাপত্তা মূল্যায়ন ও কৌশলগত সিদ্ধান্তের ইঙ্গিত বহন করে। ফলে আন্তর্জাতিক মহল এখন তেহরানের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে গভীর নজর রাখছে।