বৃহস্পতিবার , ২রা জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ১৮ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ - বর্ষাকাল || ১৭ই মহর্‌রম, ১৪৪৮ হিজরি

লেবানন-ইসরায়েল নতুন যুদ্ধবিরতিতে সম্মত, হিজবুল্লাহকে হামলা বন্ধের কঠোর শর্ত

প্রকাশিত হয়েছে- বৃহস্পতিবার, ৪ জুন, ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘদিনের উত্তেজনার মধ্যে নতুন করে যুদ্ধবিরতি চুক্তি বাস্তবায়নে সম্মত হয়েছে লেবানন ও ইসরায়েল। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর (স্টেট ডিপার্টমেন্ট) এক বিবৃতিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। তবে এই যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার জন্য বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত পূরণ করতে হবে বলে জানানো হয়েছে।

চুক্তির অন্যতম প্রধান শর্ত হলো, ইরানসমর্থিত সশস্ত্র সংগঠন হিজবুল্লাহকে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে সব ধরনের রকেট, ড্রোন ও সামরিক হামলা সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করতে হবে। একইসঙ্গে দক্ষিণ লেবাননের লিতানি নদী থেকে ইসরায়েল সীমান্ত পর্যন্ত এলাকায় হিজবুল্লাহর সদস্য ও সামরিক কার্যক্রম প্রত্যাহার করতে হবে।

গত এপ্রিল মাসে দুই পক্ষের মধ্যে একটি ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি হয়েছিল। কিন্তু সম্প্রতি দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি বিমান হামলায় অন্তত ৯ জন নিহত এবং এর পাল্টা জবাবে উত্তর ইসরায়েলে হিজবুল্লাহর রকেট হামলার ফলে সেই সমঝোতা চরম সংকটে পড়ে। এমন পরিস্থিতিতে নতুন করে এই যুদ্ধবিরতির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, লেবানন ও ইসরায়েলের ভবিষ্যৎ সম্পর্ক নির্ধারণের অধিকার কেবল দুই দেশের সার্বভৌম সরকারের রয়েছে। কোনো বিদেশি শক্তি বা অ-রাষ্ট্রীয় সশস্ত্র গোষ্ঠী যেন সেই প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করতে না পারে, সে বিষয়ে সবাই একমত হয়েছে।

চুক্তির অংশ হিসেবে লেবাননে কয়েকটি পরীক্ষামূলক নিরাপত্তা অঞ্চল বা ‘পাইলট জোন’ গড়ে তুলতে সহযোগিতা করবে যুক্তরাষ্ট্র। এসব এলাকায় কোনো সশস্ত্র গোষ্ঠীর উপস্থিতি থাকবে না এবং সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ থাকবে লেবাননের সরকারি সেনাবাহিনীর হাতে।

আগামী ২২ জুন পূর্ণাঙ্গ শান্তি ও নিরাপত্তা চুক্তির লক্ষ্যে দুই দেশ আবারও আলোচনায় বসবে। তবে এখন পর্যন্ত হিজবুল্লাহ আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন যুদ্ধবিরতি চুক্তি সম্পর্কে কোনো মন্তব্য করেনি।

এদিকে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী Marco Rubio আশা প্রকাশ করেছেন, চলমান আলোচনা লেবাননে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা এবং সশস্ত্র গোষ্ঠীর প্রভাবমুক্ত একটি নিরাপদ পরিবেশ গঠনে সহায়ক হবে।

বিশ্লেষকদের মতে, হিজবুল্লাহর অবস্থান এবং সীমান্ত এলাকায় চলমান সামরিক উত্তেজনা বিবেচনায় এই যুদ্ধবিরতি চুক্তির বাস্তবায়ন সহজ হবে না। তবুও দীর্ঘদিনের সংঘাত কমিয়ে আনার লক্ষ্যে এটিকে গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।