বৃহস্পতিবার , ২রা জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ১৮ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ - বর্ষাকাল || ১৭ই মহর্‌রম, ১৪৪৮ হিজরি

লেবাননে হামলার জেরে আবারও উত্তেজনা: হরমুজ প্রণালী বন্ধের দাবি ইরানি গণমাধ্যমের

প্রকাশিত হয়েছে- বৃহস্পতিবার, ৯ এপ্রিল, ২০২৬

লেবাননে ইসরায়েলের সাম্প্রতিক হামলার পর গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক বাণিজ্যপথ হরমুজ প্রণালী পুনরায় বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেছে ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম প্রেস টিভি

বুধবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, ‘অরোরা’ নামের একটি পানামার পতাকাবাহী তেলবাহী ট্যাংকার পারস্য উপসাগর পেরিয়ে আরব সাগর-এর দিকে যাওয়ার চেষ্টা করছিল। তবে কিছুদূর অগ্রসর হওয়ার পর সেটি প্রণালী অতিক্রম করতে ব্যর্থ হয়ে আবার পারস্য উপসাগরে ফিরে যায়।

পরবর্তীতে গ্রিসভিত্তিক জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণ সংস্থা মেরিন ট্রাফিক তাদের ওয়েবসাইটে জানায়, ‘অরোরা’ বর্তমানে পারস্য উপসাগরে নোঙর করা অবস্থায় রয়েছে।

উল্লেখ্য, ‘অরোরা’ জাহাজটি যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার তালিকাভুক্ত। ইরানি তেল পরিবহনের অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগ এই জাহাজের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল।

এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো বিবৃতি দেয়নি ইরান সরকার বা দেশটির প্রতিরক্ষা বিভাগ।

বিশ্ব জ্বালানি বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী প্রতিদিন বিশ্বে পরিবাহিত মোট তেল ও তরল গ্যাসের প্রায় ২০ শতাংশের পথ। এ কারণে একে ‘জ্বালানির বৈশ্বিক দরজা’ বলা হয়।

এর আগে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রইসরায়েল-এর সঙ্গে সংঘাত শুরুর পর এই প্রণালীতে অবরোধ দেয় ইরান, যার ফলে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের ব্যাঘাত ঘটে এবং তেলের দাম বৃদ্ধি পায়।

প্রায় ৪০ দিনের সংঘাতের পর গত ৭ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্রইরান ১৫ দিনের যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়। ওই সময়ের মধ্যে হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল তেহরান। তবে লেবাননে সাম্প্রতিক হামলার পর পরিস্থিতি আবারও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে।

এদিকে, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সৈয়দ আব্বাস আরাগচি যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্ক করে বলেছেন, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি বজায় রাখা অথবা ইসরায়েলের পক্ষে যুদ্ধে জড়ানো—এই দুইয়ের মধ্যে একটি পথ বেছে নিতে হবে।