লেবাননে ইসরায়েলি ড্রোন হামলায় নিহত আরও দুই বাংলাদেশি প্রবাসীর মরদেহ দেশে পৌঁছেছে। শনিবার (৬ জুন) দিবাগত রাতে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তাদের মরদেহ এসে পৌঁছায়। স্বজনদের কান্না আর শোকের আবহে বিমানবন্দরে মরদেহ গ্রহণ করা হয়।
বিমানবন্দরে নিহতদের পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতিতে মরদেহ গ্রহণ করেন শামা ওবায়েদ ইসলাম। এ সময় তিনি শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান এবং সরকারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
সব ধরনের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হওয়ার পর প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের বিশেষ অ্যাম্বুলেন্সে করে মরদেহ দুটি তাদের নিজ জেলা সাতক্ষীরায় পাঠানো হয়। সেখানে পারিবারিক কবরস্থানে দাফনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী জানান, মরদেহ দেশে আনার সম্পূর্ণ ব্যয় সরকার বহন করছে। পাশাপাশি নিহত দুই প্রবাসীর পরিবারকে মোট ১৩ লাখ টাকা আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে। এই সহায়তা পরিবারের সদস্যদের তাৎক্ষণিক প্রয়োজন মেটাতে এবং তাদের পাশে দাঁড়ানোর অংশ হিসেবে প্রদান করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশি নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার সর্বদা সচেষ্ট। লেবাননসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কর্মরত বাংলাদেশিদের যেকোনো সংকটে প্রয়োজনীয় সহায়তা দিতে সংশ্লিষ্ট দূতাবাস ও সরকারি সংস্থাগুলো সমন্বিতভাবে কাজ করছে।
উল্লেখ্য, গত ১১ মে দক্ষিণ লেবাননের নাবাতিয়েহ অঞ্চলের জিবদিন এলাকায় ইসরায়েলি ড্রোন হামলায় ওই দুই বাংলাদেশি নিহত হন। হামলার পর তাদের মরদেহ বৈরুতের রফিক হারিরি হাসপাতাল-এর মর্গে সংরক্ষণ করা হয়। প্রয়োজনীয় কূটনৈতিক ও আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর অবশেষে তাদের মরদেহ দেশে পাঠানো সম্ভব হয়।
দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর স্বজনদের কাছে মরদেহ ফিরলেও প্রিয়জন হারানোর বেদনা কাটিয়ে উঠতে পারছেন না পরিবারের সদস্যরা। নিহতদের স্বজনরা সরকারের সহায়তার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশের পাশাপাশি বিদেশে কর্মরত বাংলাদেশিদের নিরাপত্তা জোরদারের দাবি জানিয়েছেন।