লেবাননে ইসরায়েলের ভয়াবহ বিমান হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে অন্তত ২৫৪ জনে পৌঁছেছে। একই সঙ্গে আহত হয়েছেন ১ হাজার ১০০ জনেরও বেশি মানুষ। নিহত ও আহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
রাজধানী বৈরুতসহ লেবানন-এর বিভিন্ন অঞ্চলে এই হামলা চালানো হয়। আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, আহতদের চাপে হাসপাতালগুলোতে সৃষ্টি হয়েছে চরম সংকট, আর ধ্বংসস্তূপে আটকে পড়াদের উদ্ধারে হিমশিম খাচ্ছে উদ্ধারকারী দল।
এর আগে গত ৭ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান ১৫ দিনের অস্থায়ী যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়। তবে কূটনৈতিক আলোচনা চলমান থাকলেও বুধবার হঠাৎ করেই লেবাননজুড়ে ব্যাপক বিমান হামলা চালায় ইসরায়েল।
ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী জানিয়েছে, মাত্র ১০ মিনিটের অভিযানে ৫০টি যুদ্ধবিমান অংশ নেয় এবং শতাধিক বোমা নিক্ষেপ করা হয়। অধিকাংশ হামলা চালানো হয় ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায়, ফলে ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা অনেক বেশি।
উল্লেখ্য, ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ-কে দমন করতে ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর থেকে লেবাননে সামরিক অভিযান চালিয়ে আসছে ইসরায়েল। ২০২৫ সালের অক্টোবরে আন্তর্জাতিক চাপের মুখে সাময়িক যুদ্ধবিরতি হলেও পরে আবার সংঘাত তীব্র হয়।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান-এ যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার মধ্য দিয়ে বৃহত্তর আঞ্চলিক সংঘাত শুরু হয়। এরপর থেকেই লেবাননেও সামরিক অভিযান জোরদার করা হয়।
এদিকে, ইরানের আধাসরকারি সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিউজ জানিয়েছে, লেবাননে হামলা অব্যাহত থাকলে ইরান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান যুদ্ধবিরতি থেকেও সরে আসতে পারে—যা মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।