বুধবার , ১লা জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ১৭ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ - বর্ষাকাল || ১৬ই মহর্‌রম, ১৪৪৮ হিজরি

লেবাননে ইসরায়েলি হামলার পর যুক্তরাষ্ট্রকে কঠোর বার্তা আরাগচির: ‘যুদ্ধবিরতি নাকি যুদ্ধ—একটি বেছে নিন

প্রকাশিত হয়েছে- বৃহস্পতিবার, ৯ এপ্রিল, ২০২৬

লেবাননে ইসরায়েলের সাম্প্রতিক ভয়াবহ বিমান হামলার পর যুক্তরাষ্ট্রকে কড়া সতর্কবার্তা দিয়েছেন সৈয়দ আব্বাস আরাগচি। তিনি বলেছেন, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি বজায় রাখা কিংবা ইসরায়েলের পক্ষে যুদ্ধে জড়ানো—এই দুইয়ের মধ্যে যেকোনো একটি পথ বেছে নিতে হবে যুক্তরাষ্ট্র-কে।

বুধবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, “যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরানের যুদ্ধবিরতির শর্তগুলো স্পষ্ট। এখন যুক্তরাষ্ট্রকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে—তারা যুদ্ধবিরতি চায়, নাকি ইসরায়েলের পক্ষে যুদ্ধে অংশ নিতে চায়। এই দুটি একসঙ্গে চলতে পারে না।”

তিনি আরও বলেন, “লেবাননে যে বিধ্বংসী হামলা ও নির্বিচার হত্যাকাণ্ড চলছে, পুরো বিশ্ব তা প্রত্যক্ষ করছে। এখন বল যুক্তরাষ্ট্রের কোর্টে।”

গত ৭ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্রইরান-এর মধ্যে ১৫ দিনের একটি অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করা হয়। স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে কূটনৈতিক তৎপরতা চলমান থাকলেও এর মধ্যেই বুধবার ইসরায়েল লেবাননজুড়ে ব্যাপক বিমান হামলা চালায়।

সর্বশেষ তথ্যমতে, এই হামলায় লেবানন-এ নিহত হয়েছেন অন্তত ২৫৪ জন এবং আহত হয়েছেন ১ হাজার ১০০ জনেরও বেশি। নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী জানিয়েছে, মাত্র ১০ মিনিটের অভিযানে ৫০টি যুদ্ধবিমান অংশ নেয় এবং শতাধিক বোমা নিক্ষেপ করা হয়। অধিকাংশ হামলা চালানো হয় ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায়, ফলে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ব্যাপক।

আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, রাজধানী বৈরুতসহ বিভিন্ন শহরের হাসপাতালগুলোতে আহতদের ভিড়ে চরম চাপ সৃষ্টি হয়েছে। ধ্বংসস্তূপে আটকে পড়াদের উদ্ধারে হিমশিম খাচ্ছে উদ্ধারকারী দল।

উল্লেখ্য, ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ-কে দমন করতে দীর্ঘদিন ধরে লেবাননে সামরিক অভিযান চালিয়ে আসছে ইসরায়েল। ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হওয়া এই অভিযান আন্তর্জাতিক চাপের মুখে ২০২৫ সালের অক্টোবরে সাময়িকভাবে থেমে গেলেও পরবর্তীতে আবারও সংঘাত বাড়তে থাকে।

এদিকে, ইরানের আধাসরকারি সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিউজ জানিয়েছে, লেবাননে হামলা অব্যাহত থাকলে ইরান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতি থেকেও সরে আসতে পারে—যা মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।