বুধবার , ১লা জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ১৭ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ - বর্ষাকাল || ১৬ই মহর্‌রম, ১৪৪৮ হিজরি

লিবিয়ার ভূগর্ভস্থ ‘গোপন কারাগার’ থেকে ২০০ অভিবাসী উদ্ধার, বহু বছরের বন্দিত্বের চিহ্ন

প্রকাশিত হয়েছে- সোমবার, ১৯ জানুয়ারি, ২০২৬

কুফরা, লিবিয়া: লিবিয়ার দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের কুফরা শহরে একটি ভূগর্ভস্থ ‘গোপন কারাগার’ থেকে ২০০-এরও বেশি অভিবাসীকে মুক্ত করেছে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী। উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে অনেকেই দুই বছরের বেশি সময় ধরে কারাগারে বন্দি ছিলেন, জানিয়েছেন অন্তত দুটি নিরাপত্তা সূত্র ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একটি নিরাপত্তা সূত্র জানিয়েছে, কারাগারটি প্রায় তিন মিটার গভীর এবং সেখানে বন্দিদের অমানবিক পরিবেশে আটকে রাখা হয়েছিল। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, একজন লিবীয় মানবপাচারকারী এই কারাগার পরিচালনা করছিলেন। তবে তাকে এখনও গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি।

মুক্তিপ্রাপ্তদের মধ্যে কেউ কেউ টানা দুই বছর পর্যন্ত ওই ভূগর্ভস্থ কারাগারে বন্দি ছিলেন। দেশটির এক কর্মকর্তা ঘটনাটিকে মানবতার বিরুদ্ধে ভয়াবহ অপরাধ হিসেবে অভিহিত করেছেন।

নিরাপত্তা বাহিনী জানিয়েছে, গোপন কারাগারের ভেতরে একাধিক অমানবিক কক্ষ রয়েছে। উদ্ধারকৃত অভিবাসীরা মূলত সাব-সাহারান আফ্রিকার দেশসমূহ থেকে এসেছে, বিশেষ করে সোমালিয়া ও ইরিত্রিয়া। তাদের মধ্যে নারী ও শিশুও রয়েছেন।

লিবিয়ার কুফরা শহর রাজধানী ত্রিপোলি থেকে প্রায় ১,৭০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। ২০১১ সালের ন্যাটো-সমর্থিত গণ-অভ্যুত্থানের পর থেকে লিবিয়া ইউরোপে পাড়ি দেওয়ার অভিবাসীদের জন্য প্রধান ট্রানজিট রুটে পরিণত হয়েছে। তবে দেশটির দুর্বল নিরাপত্তা পরিস্থিতি ও দারিদ্র্যের কারণে অনেকে এখানে নির্যাতন, পাচার ও সহিংসতার শিকার হন।

উল্লেখযোগ্য, গত সপ্তাহে পূর্ব লিবিয়ায় একটি গণকবর থেকে অন্তত ২১ জন অভিবাসীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে, এবং জীবিত উদ্ধার হওয়া প্রায় ১০ জনের শরীরে নির্যাতনের চিহ্ন পাওয়া গেছে। ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে সুদানে সংঘাত শুরু হওয়ার পর পালিয়ে আসা বহু সুদানি শরণার্থীও কুফরায় বসবাস করছেন।