বুধবার , ১লা জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ১৭ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ - বর্ষাকাল || ১৬ই মহর্‌রম, ১৪৪৮ হিজরি

রুনা হত্যা মামলায় মোড় ঘুরল: প্রধান আসামি ফজলুর কারাগারে, নীরবতায় রহস্য ঘনীভূত

প্রকাশিত হয়েছে- বুধবার, ১ এপ্রিল, ২০২৬

চাঞ্চল্যকর শিক্ষিকা হত্যা মামলায় নতুন মোড় নিয়েছে তদন্ত। ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়-এর সমাজকল্যাণ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান আসমা সাদিয়া রুনা হত্যাকাণ্ডের প্রধান আসামি ফজলুর রহমানকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

বুধবার (১ এপ্রিল) ইবি থানা-র ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাসুদ রানা বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ৪ মার্চ সংঘটিত এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পর আহত অবস্থায় গ্রেপ্তার হন ফজলুর রহমান। এরপর থেকে তিনি পুলিশি পাহারায় কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল-এ চিকিৎসাধীন ছিলেন। দীর্ঘ চিকিৎসা শেষে চিকিৎসকরা তাকে সুস্থ ঘোষণা করলে আদালতে সোপর্দ করা হয়।

তবে তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ এই পর্যায়ে এসে তৈরি হয়েছে নতুন জটিলতা। পুলিশ জানায়, ফজলুর রহমান এখনও কথা বলতে পারছেন না। ফলে তার কাছ থেকে সরাসরি জিজ্ঞাসাবাদ করে ঘটনার পূর্ণ বিবরণ জানা সম্ভব হয়নি। যদিও চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি চিকিৎসকদের সামনে একটি লিখিত বক্তব্য দিয়েছেন, যা এখন তদন্তে গুরুত্ব সহকারে পর্যালোচনা করা হচ্ছে।

ওসি মাসুদ রানা বলেন, “আসামির শারীরিক অবস্থার কারণে এখনো বিস্তারিত জবানবন্দি নেওয়া সম্ভব হয়নি। তবে আমরা তার দেওয়া লিখিত স্টেটমেন্টসহ অন্যান্য তথ্য বিশ্লেষণ করছি। মামলার তদন্ত চলমান রয়েছে।”

এদিকে মামলার অন্যান্য আসামিদের গতিবিধিও নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। তাদের কেউ যাতে দেশত্যাগ করতে না পারে, সে লক্ষ্যে আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী ইতোমধ্যে ইমিগ্রেশনসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ৪ মার্চ বিশ্ববিদ্যালয়ের থিওলজি অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ অনুষদ ভবনে নিজ কার্যালয়ে নির্মমভাবে ছুরিকাঘাতে নিহত হন শিক্ষিকা আসমা সাদিয়া রুনা। এই মর্মান্তিক ঘটনায় ৫ মার্চ নিহতের স্বামী ইমতিয়াজুর সুলতান বাদী হয়ে ফজলুর রহমানকে প্রধান আসামি করে চারজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন।

ঘটনার পরপরই পুলিশ প্রধান আসামিকে গ্রেপ্তার করে। পাশাপাশি ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক কর্মকর্তা ও শিক্ষককে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন সমাজকল্যাণ বিভাগের সাবেক কর্মচারী বিশ্বজিৎ কুমার বিশ্বাস, সহকারী অধ্যাপক শ্যাম সুন্দর সরকার এবং সহকারী অধ্যাপক হাবিবুর রহমান।

এই হত্যাকাণ্ড বিশ্ববিদ্যালয়জুড়ে তীব্র উদ্বেগ ও ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে। শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ সচেতন মহল দ্রুত তদন্ত শেষ করে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বলছে, তদন্তের অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে এই রহস্যময় হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যের আসল চিত্র সামনে আসবে।