রবিবার , ২৬শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ১১ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ - বর্ষাকাল || ১২ই সফর, ১৪৪৮ হিজরি

রাশিয়ায় চাকরির প্রলোভনে যাওয়া ৩০ বাংলাদেশি যুদ্ধে, নিহত ৪; বাকিদের ফেরাতে কূটনৈতিক তৎপরতা

প্রকাশিত হয়েছে- বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই, ২০২৬

 

 

রাশিয়ায় চাকরির চুক্তিতে যাওয়া ৩০ বাংলাদেশি কর্মীকে জোরপূর্বক যুদ্ধসংক্রান্ত কাজে পাঠানোর অভিযোগ উঠেছে। তাদের মধ্যে চারজনের মৃত্যুর তথ্য পাওয়া গেছে। বাকি কর্মীদের নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনতে কূটনৈতিক উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ সরকার।

জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী এ তথ্য জানান। বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) লালমনিরহাট-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. হাসান রাজীব প্রধানের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, রাশিয়ায় অবস্থানরত এসব বাংলাদেশি কর্মীর বিষয়ে সরকার অবগত রয়েছে এবং তাদের উদ্ধারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

মন্ত্রী জানান, চলতি বছরের ২৪ এপ্রিল তিনটি রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি) থেকে ম্যানপাওয়ার ক্লিয়ারেন্স নিয়ে ৩০ জন বাংলাদেশি কর্মী রাশিয়ায় যান। সংশ্লিষ্ট রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর লাইসেন্স নম্বর হলো ১৪৫৫, ১৪২৮ ও ২৫০৫।

রাশিয়ায় পৌঁছানোর পর এসব কর্মীকে চাকরির পরিবর্তে সামরিক প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে এবং যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠানোর প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে—এমন তথ্য পাওয়ার পর বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নেয় সরকার। এরপর গত ১৫ জুন মস্কোতে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়।

প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী বলেন, সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী ৩০ বাংলাদেশির মধ্যে চারজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। রাশিয়ার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। বাকি কর্মীদের দেশে ফিরিয়ে আনতে সরকার কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

এর আগে চলতি বছরের এপ্রিল মাসে উচ্চ বেতনের চাকরির আশ্বাসে এসব বাংলাদেশি যুবক রাশিয়ায় পাড়ি জমান। পরে তাদের পরিবারের সদস্যরা অভিযোগ করেন, কর্মসংস্থানের কথা বলে নিয়ে গিয়ে তাদের সামরিক প্রশিক্ষণের আওতায় আনা হয়েছে এবং ইউক্রেন যুদ্ধের সম্মুখভাগে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে।

বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর বাংলাদেশ সরকার তদন্ত শুরু করে এবং রাশিয়ায় অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসের মাধ্যমে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও কর্মীদের উদ্ধারের উদ্যোগ নেয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বিদেশে কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা, কর্মসংস্থানের তথ্য যাচাই এবং সংশ্লিষ্ট রিক্রুটিং এজেন্সির জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা জরুরি। এ ধরনের ঘটনা বাংলাদেশের অভিবাসন ব্যবস্থাপনায় আরও কঠোর নজরদারির প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছে।