বৃহস্পতিবার , ২রা জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ১৮ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ - বর্ষাকাল || ১৭ই মহর্‌রম, ১৪৪৮ হিজরি

রাবি শিক্ষার্থীর শিশুর জীবন বাঁচাতে দরকার অনেক টাকা

প্রকাশিত হয়েছে- মঙ্গলবার, ৫ মে, ২০২৬

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) University of Rajshahi ভেটেরিনারি অ্যান্ড এনিমেল সায়েন্সেস বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী রাজিয়া সুলতানা মিতুর ১৭ মাস বয়সী একমাত্র সন্তান বিরল ও জটিল জেনেটিক রোগে আক্রান্ত হয়েছে। সন্তানের জীবন বাঁচাতে এখন সমাজের বিত্তবান ও হৃদয়বান মানুষের সহায়তা কামনা করছেন এই মা।

শিশুটির নাম শুদ্ধ। সে জন্মগ্রহণ করে ২০২৪ সালের ২৬ নভেম্বর। তার বাবা আকিব হোসাইন শুভ একটি প্রাইভেট কোম্পানিতে কর্মরত।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, শিশুটি স্পাইনাল মাসকুলার অ্যাট্রফি (এসএমএ) টাইপ-২ নামের একটি বিরল জেনেটিক রোগে আক্রান্ত। এই রোগে শরীরের পেশী নিয়ন্ত্রণকারী স্নায়ু ধীরে ধীরে দুর্বল হয়ে পড়ে। ফলে আক্রান্ত শিশু স্বাভাবিকভাবে বসা, দাঁড়ানো কিংবা হাঁটার মতো মৌলিক কাজ করতে পারে না। এমনকি শ্বাস নেওয়া ও খাবার গিলতেও সমস্যা দেখা দেয়।

পরিবারের দাবি, ইতোমধ্যে শিশুটির শ্বাসকষ্ট শুরু হয়েছে এবং মেরুদণ্ড বাঁকা হওয়ার লক্ষণ দেখা দিয়েছে। চিকিৎসকদের মতে, দ্রুত চিকিৎসা শুরু না করলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে।

চিকিৎসা হিসেবে একটি বিশেষ জিন থেরাপি ইনজেকশন রয়েছে, যা দুই বছরের মধ্যে প্রয়োগ করা গেলে শিশুটি অনেকটাই স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারে। তবে এই চিকিৎসার খরচ অত্যন্ত ব্যয়বহুল। চীনে উৎপাদিত ‘ভেসেমনোজিন’ নামের এই ইনজেকশনের মূল্য প্রায় ১ কোটি ৫৫ লাখ টাকা।

পরবর্তীতে উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান খরচ কমিয়ে ৭৫ লাখ টাকায় চিকিৎসা দিতে সম্মত হয়েছে। কিন্তু এত বড় অঙ্কের অর্থ জোগাড় করা পরিবারের পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না।

শিশুটির বাবা মো. আকিব হোসেন শুভ জানান, গত ১২ মার্চ তারা পেডিয়াট্রিক নিউরোলজিস্ট অধ্যাপক ডা. গোপেন কুমার কুন্ডুর কাছে গেলে পরীক্ষার পর এসএমএ সন্দেহ করা হয়। পরে ১৪ মার্চ ভারতে নমুনা পাঠানো হয় এবং ২৬ মার্চ রিপোর্টে রোগটি নিশ্চিত হয়। বর্তমানে শিশুটির শ্বাসকষ্ট ও শারীরিক জটিলতা বাড়ছে।

তিনি বলেন, “আমরা ফান্ড কালেকশন করছি, কিন্তু এখনো পর্যাপ্ত সহায়তা পাইনি। সবার সহযোগিতা পেলে আমার সন্তানকে বাঁচানো সম্ভব।”

শিশুটির মা রাজিয়া সুলতানা মিতু আবেগাপ্লুত হয়ে বলেন, “প্রতিদিন আমার সন্তানের দিকে তাকিয়ে মনে হয় সময় ফুরিয়ে যাচ্ছে। আমি শুধু চাই আমার সন্তানটা বেঁচে থাকুক, হাসুক, স্বাভাবিকভাবে বড় হোক। আপনাদের সাহায্য ছাড়া এটা সম্ভব না।”

এদিকে পরিবারটি সমাজের বিত্তবান ও মানবিক মানুষদের প্রতি আর্থিক সহায়তার জন্য আন্তরিক আবেদন জানিয়েছে।

 

 

সহায়তা পাঠানোর মাধ্যম—

বিকাশ : ০১৭২৭৪৬২০২১, ০১৭৫০৫৯১৯৯৮, ০১৯২১৮৪২৪৪০, ০১৭৩৫২৬৬৫৩৭
নগদ : ০১৭২৭৪৬২০২১, ০১৭৫০৫৯১৯৯৮, ০১৯২১৮৪২৪৪০, ০১৭৩৫২৬৬৫৩৭
রকেট : ০১৭২৭৪৬২০২১-৯, ০১৭৫০৫৯১৯৯৮-৩, ০১৯২১৮৪২৪৪০-০, ০১৭৩৫২৬৬৫৩৭-৪