শুক্রবার , ৩রা জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ১৯শে আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ - বর্ষাকাল || ১৮ই মহর্‌রম, ১৪৪৮ হিজরি

রান তাড়ায় অনন্য উচ্চতায় ভারত ও স্যামসন, ছয়ের নতুন রেকর্ড

প্রকাশিত হয়েছে- সোমবার, ২ মার্চ, ২০২৬

কলকাতার ইডেন গার্ডেন্সে ভারত ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ অঘোষিত কোয়ার্টার ফাইনালে মুখোমুখি হয়েছিল গতকাল (রোববার)। জিতলে সেমিফাইনাল, হারলে বিদায়– এমন সমীকরণ ছিল দুই দলের সামনে। ওয়েস্ট ইন্ডিজ ১৯৫ রানের বড় সংগ্রহ করে ভারতকে কঠিন চ্যালেঞ্জ ছুড়েছিল। কারণ বিশ্বকাপে কোনোদিন এত রান তাড়া করে জিততে পারেনি ভারত। কিন্তু সাঞ্জু স্যামসন যেভাবে ব্যাট করলেন, সেই গেরো কেটে গেল। নতুন উচ্চতায় পৌঁছে গেল ভারত ও স্যামসনের অর্জন।

১৯৬– লক্ষ্য, যা কলকাতায় ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে তাড়া করে সফল হয়েছে ভারত। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে সফলভাবে রান তাড়ার তালিকায় এটি তৃতীয় সর্বোচ্চ। ২০১৬ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ইংল্যান্ডে ২৩০ ও ২০০৭ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে দক্ষিণ আফ্রিকার ২৯৬ তাদের উপরে।

১– নিজেদের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ইতিহাসেও এটি ভারতের সর্বোচ্চ রান তাড়া করে জেতার রেকর্ড। এর আগে ২০১৪ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ১৭৩ রানের লক্ষ্যে নেমে জিতেছিল তারা।

এই ম্যাচে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ৫ উইকেটে ১৯৫ রান করে। তাতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে আগে বোলিং করে ভারত তাদের সর্বোচ্চ রানও হজম করেছে, সব মিলিয়ে তৃতীয় সর্বোচ্চ। এনিয়ে বিশ্বকাপে কেবল চতুর্থবার ১৭৩ রানের বেশি তাড়া করতে নেমেছিল ভারত।

৯৭*– ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সাঞ্জু স্যামসনের ব্যক্তিগত রান। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতের হয়ে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান করেছেন তিনি। ২০১০ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সুরেশ রায়নার ১০১ রান সর্বোচ্চ।

তবে রান তাড়া করতে নেমে এটাই কোনো ভারতীয় ব্যাটারের সর্বোচ্চ ইনিংস। ২০১৬ সালে অস্ট্রেলিয়া ও ২০২২ সালে পাকিস্তানের বিপক্ষে বিরাট কোহলির অপরাজিত ৮২ রানকে পেছনে ফেললেন স্যামসন।

১– স্যামসনের অপরাজিত ৯৭, আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে রান তাড়া করে নিজের প্রথম ফিফটি। রান তাড়ায় তার আগের সর্বোচ্চ ইনিংস ছিল ৩৯, ২০২২ সালে ধর্মশালায় শ্রীলঙ্কা ছিল প্রতিপক্ষ।

১৫০– আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে রভম্যান পাওয়েলের ছক্কার সংখ্যা, প্রথম ওয়েস্ট ইন্ডিজ ব্যাটার হিসেবে এই ফরম্যাটে এত ছক্কা মেরেছেন তিনি। ভারতের বিপক্ষে দুটি ছক্কা মেরে ১৪৯ ছয়ের মালিক নিকোলাস পুরানকে সরালেন পাওয়েল।

৭৬– এই বিশ্বকাপে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ছয়ের সংখ্যা এটি। টি-টোয়েন্টির একটি আন্তর্জাতিক সিরিজ বা টুর্নামেন্টে কোনো দলের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। ২০২৫ ত্রিদেশীয় সিরিজে বুলগেরিয়া সর্বোচ্চ ৭৮ ছক্কা মেরেছিল।

১৯– শিমরন হেটমায়ারের ছক্কার সংখ্যা, বিশ্বকাপের এক আসরে কোনো ব্যাটারের সর্বোচ্চ। এই আসরেই সাহিবজাদা ফারহানের (১৮) কীর্তিকে পেছনে ফেলেছেন উইন্ডিজ ব্যাটার।

৬– বিশ্বকাপে ভারতের সেমিফাইনালে উপস্থিতির সংখ্যা— ২০০৭, ২০১৪, ২০১৬, ২০২২, ২০২৪ ও ২০২৬। তারা ছাড়া ছয় আসরের সেমিফাইনালে খেলেছে কেবল ইংল্যান্ড ও পাকিস্তান।

৭০– স্যামসনের অপরাজিত ৯৭ ও তিলক ভার্মার ২৭ রান। ভারতের এক ইনিংসে প্রথম ও দ্বিতীয় সেরা ব্যাটারের রানের পার্থক্য ৭০! টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের এক ইনিংসে দুই শীর্ষ ব্যাটারের মাঝে ভারতের এটিই রানের সবচেয়ে বড় পার্থক্য। আগের সর্বোচ্চ ছিল ৬৬ রানের, ২০১০ সালে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে রোহিত শর্মা (অপরাজিত ৭৯) ও হরভজন সিং (১৩) এই রেকর্ডের ভাগিদার।

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে শীর্ষ ও দ্বিতীয় সেরা ব্যাটারের মাঝে সর্বোচ্চ পার্থক্য ৭২ রানের। গত সপ্তাহে ইংল্যান্ড ও পাকিস্তান ম্যাচে হ্যারি ব্রুক ১০০ ও উইল জ্যাকস অপরাজিত ২৮ রান করেন।

৮– ইডেন গার্ডেন্সে ভারতের টানা টি-টোয়েন্টি জয়ের সংখ্যা। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ২০১১ সালে শেষবার এই ভেন্যুতে হেরেছিল তারা। এই সংস্করণে যে কোনো ভেন্যুতে এটাই ভারতের সবচেয়ে দীর্ঘতম জয়ের ধারা। এই ভেন্যুতে ভারতের আটটি জয়ের মধ্যে পাঁচটিই ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে।