বৃহস্পতিবার , ২রা জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ১৮ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ - বর্ষাকাল || ১৭ই মহর্‌রম, ১৪৪৮ হিজরি

রাত ১১টা পর্যন্ত চলতে পারে মেট্রোরেল, বাড়ছে ট্রিপ ও যাত্রীসেবা উন্নয়নের পরিকল্পনা

প্রকাশিত হয়েছে- বুধবার, ৬ মে, ২০২৬

রাজধানীর ঢাকা মেট্রোরেল-এর চলাচলের সময়সীমা আরও বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী, রাতের শেষ ট্রেন চলতে পারে রাত ১১টা পর্যন্ত, যা বর্তমানে সময়ের তুলনায় প্রায় ৪০–৫০ মিনিট বেশি।

ঢাকা মাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল) সূত্রে জানা গেছে, যাত্রীদের চাহিদা ও সুবিধা বিবেচনায় এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে কারিগরি পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে এবং সবকিছু ঠিক থাকলে মে মাসের শেষ দিকে বা ঈদুল আজহার পর নতুন সময়সূচি কার্যকর হতে পারে।

নতুন পরিকল্পনায় ট্রেন চলাচলের ব্যবধানও কমানোর কথা ভাবা হচ্ছে। বর্তমানে দুই ট্রেনের ব্যবধান পাঁচ মিনিট হলেও তা কমিয়ে সাড়ে চার মিনিট করার প্রস্তাব রয়েছে, যাতে ব্যস্ত সময়ে যাত্রীসেবা আরও দ্রুত হয়।

প্রস্তাবিত সূচি অনুযায়ী, মতিঝিল থেকে উত্তরা রুটে শেষ ট্রেন রাত ১১টায় ছাড়তে পারে, যেখানে বর্তমানে শেষ ট্রেন ছাড়ে রাত ১০টা ১০ মিনিটে। একইভাবে উত্তরা থেকে মতিঝিলগামী শেষ ট্রেনও রাত ১১টার দিকে চালানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

ডিএমটিসিএল জানিয়েছে, বর্তমানে প্রতিদিন প্রায় ২৯৭টি ট্রিপ পরিচালিত হচ্ছে। নতুন সূচি কার্যকর হলে ট্রিপের সংখ্যা আরও বাড়বে। পাশাপাশি পিক আওয়ারে অতিরিক্ত ট্রেন সংযোজনের প্রস্তুতিও নেওয়া হচ্ছে।

কর্তৃপক্ষ আরও জানিয়েছে, ভবিষ্যতে সিস্টেমের সক্ষমতা অনুযায়ী সাড়ে তিন মিনিট পরপর ট্রেন চালানো সম্ভব হলেও জনবল ও পরিচালনগত সীমাবদ্ধতার কারণে ধাপে ধাপে সম্প্রসারণ করা হচ্ছে।

মেট্রোরেলের দৈনিক যাত্রীসংখ্যা বর্তমানে প্রায় সাড়ে চার লাখের কাছাকাছি। কমলাপুর পর্যন্ত সম্প্রসারণ শেষ হলে এ সংখ্যা বেড়ে প্রায় ৬ লাখ ৭৭ হাজারে পৌঁছাতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ডিএমটিসিএল-এর অপারেশন ও মেইনটেন্যান্স পরিচালক মো. নজরুল ইসলাম জানিয়েছেন, সময় বাড়ানোর বিষয়টি পরীক্ষামূলকভাবে যাচাই করা হচ্ছে এবং চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয়।

উল্লেখ্য, ঢাকা মেট্রোরেল ২০২২ সালের ২৮ ডিসেম্বর চালু হয় এবং ধাপে ধাপে মতিঝিল পর্যন্ত পুরো রুটে যাত্রীসেবা চালু করা হয় ২০২৩ সালের শেষ দিকে।