বৃহস্পতিবার , ২রা জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ১৮ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ - বর্ষাকাল || ১৭ই মহর্‌রম, ১৪৪৮ হিজরি

রাজশাহী শিশু হাসপাতালে দ্রুত আউটডোর সেবা চালু করা হবে

প্রকাশিত হয়েছে- মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ, ২০২৬

রাজশাহীতে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব কামরুজ্জামান চৌধুরী বলেছেন, রাজশাহীতে শিশু হাসপাতাল আছে। যার ভবন তৈরি হয়ে আছে। কিন্তু অন্যান্য সুবিধা না থাকায় এই অঞ্চলের মানুষ সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। যত দ্রুত সম্ভব সেখানে বাচ্চাদের আউটডোর সেবা চালু করা হবে। পর্যায়ক্রমে ওটাকে একটি পূর্ণাঙ্গ শিশু হাসপাতালে রূপান্তর করা হবে।

মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) দুপুরে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতাল পরিদর্শন শেষে তিনি সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন।

কামরুজ্জামান চৌধুরী বলেন, দেশে হামসহ ১০ ধরনের রোগের টিকার সংকট রয়েছে। ৬০৪ কোটি টাকার টিকা কিনতে সরকারের পক্ষ থেকে ইউনিসেফকে টাকা পরিশোধ করা হয়েছে। দ্রুতই টিকা পাওয়া যাবে। টিকার ডোজ পাওয়ার পর টিকা দান কর্মসূচি শুরু হবে।

তিনি আরও বলেন, সরকারের একটি জনকল্যাণমুখী স্বাস্থ্যনীতি আছে, যেই স্বাস্থ্যনীতির ভিত্তিতে সরকার তার নির্বাচনী অঙ্গীকারে ‘সবার জন্য স্বাস্থ্য’ এই প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছে। আমরা আপনাদের সবাইকে নিয়ে সরকারের সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের জন্য ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার জন্য অঙ্গীকারবদ্ধ।

রাজশাহীতে শিশু মৃত্যুর জন্য দুঃখ প্রকাশ করে কামরুজ্জামান চৌধুরী বলেন, এটা কোনোভাবেই পূরণ করার সুযোগ আমাদের কারোরই নেই। এখানে আমাদের কিছু সীমাবদ্ধতা ছিল এবং আমরা সেগুলোর ভিত্তিতে কাজ করছি। আমরা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার একটি প্রতিবেদনও পেয়েছি এটার ওপরে। উনারা বলেছেন যে ৩৩ জনের সবাই কিন্তু মিজেলসে মারা যায়নি, অন্য কমপ্লিকেসি নিয়েও তারা এসেছিলেন। প্রত্যেকটি মৃত্যুকেই আমাদের চিকিৎসার আওতায় আনা দরকার। আমরা আমাদের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে এই মিজেলসের শর্ট আউটব্রেক অ্যাড্রেস করার জন্য একটি ব্যাপক কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করেছি।

তিনি বলেন, আমরা জাতীয়ভাবে এটাকে বৈজ্ঞানিক ভিত্তিতে মোকাবেলা করার জন্য ইতিমধ্যেই একটি বিশেষ দল গতকাল এখানে পাঠিয়েছি। উনারা এগুলো পরীক্ষা করছেন। আমাদের জাতীয় টিকা কর্মসূচি প্রণয়নের একটি টেকনিক্যাল কমিটি আছে। আমরা ওই কমিটিকে অনুরোধ করেছি যেন একটি টেকনিক্যাল প্ল্যান তৈরি করে দেয়। তারা অলরেডি তাদের পরিকল্পনা তৈরি করেছে। আমরা এটি নিয়ে সচিবালয়ে বসব। আপনারা জানেন আইডিসিআর (IEDCR) একটি প্রতিষ্ঠান আছে, আমরা তাদেরকেও বলেছি গবেষণা করে দেখতে যে কী ব্যর্থতার কারণে বা কী কারণে এই কাজটি হয়েছে।

কামরুজ্জামান চৌধুরী বলেন, আমাদের গোল্ড চেইন রেডি আছে। টিকা পেয়ে গেলে আমরা পিপিআই কর্মসূচি এবং টিকাদান কর্মসূচি ব্যাপকভাবে শুরু করব। আমরা হাসপাতালের ডাক্তার এবং প্রশাসনের সঙ্গে বসেছি। আমরা নিজেরা দেখেছি এবং এখানে আরও কিছু চিকিৎসার সুযোগ এক্সপ্লোর করেছি। হার্ট ফাউন্ডেশনের একটি হাসপাতাল আছে, আমরা ওনাদের অনুরোধ করেছি যেন ওনাদের এনআইসিইউ (NICU) ও আইসোলেশন ওয়ার্ড আমাদের ব্যবহার করতে দেয়। আমরা বাচ্চাদের ওখানে নিয়ে যাব যাদের মিজেলস নাই, নতুবা আমাদের হার্টের রোগীরা ইনফেক্টেড হয়ে যাবে এবং আমরা আরেকটি রিস্কে পড়ে যাব। এতে এখানে আইসোলেশন ওয়ার্ড খালি হবে এবং আমরা অন্যদের ভর্তি করাতে পারব।

সরকার এই সংকট মোকাবিলায় অত্যন্ত সক্রিয়ভাবে সাড়া দিয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর অনুশাসন ও নির্দেশনা হলো জনগণের প্রাইমারি হেলথকেয়ার নিশ্চিত করার জন্য আমরা সর্বশক্তি নিয়োগ করব। ইতিমধ্যেই বিভিন্ন সংস্থা আমাদের সাতটি ভেন্টিলেটর দিয়েছে, যেগুলো আমরা এখানে নিয়ে এসেছি। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে দিয়ে যাব। এতে সংকট কিছুটা লাঘব হবে।

রামেক হাসপাতাল প্রসঙ্গে কামরুজ্জামান চৌধুরী বলেন, এই মেডিকেলের (রামেক) অর্থ বরাদ্দের ক্ষেত্রে কিছুটা ঘাটতি আছে। আগামী ৪ তারিখে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সাথে আমার মিটিং আছে, সেখানে বিষয়টি উপস্থাপন করলে আশা করি ঘাটতি পূরণ হবে।

এর আগে বেলা সাড়ে ১১টায় রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) তিনটি ভেন্টিলেটর প্রদান করেন সচিব কামরুজ্জামান চৌধুরী এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস। এর আগে তারা হাসপাতালের সকল বিভাগীয় প্রধানের সাথে মতবিনিময় ও হাসপাতলের সার্বিক কার্যক্রম পরিদর্শন করেন।