বুধবার , ১লা জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ১৭ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ - বর্ষাকাল || ১৬ই মহর্‌রম, ১৪৪৮ হিজরি

রাজশাহীতে কালবৈশাখী-শিলাবৃষ্টিতে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি

প্রকাশিত হয়েছে- মঙ্গলবার, ৭ এপ্রিল, ২০২৬

রাজশাহীতে বছরের প্রথম কালবৈশাখী ঝড়ের সঙ্গে আকস্মিক শিলাবৃষ্টিতে ফল ও ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। আমের গুঁটি অবস্থায় এমন দুর্যোগে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন চাষি ও বাগানিরা।

মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে রাজশাহী জেলার দুর্গাপুর উপজেলাবাগমারা উপজেলা-এর বিভিন্ন এলাকায় কালবৈশাখী ঝড়ের সঙ্গে প্রায় ২০ মিনিট ধরে শিলাবৃষ্টি হয়।

বিকেলের দিকে হঠাৎ আকাশ কালো হয়ে দমকা হাওয়ার সঙ্গে শুরু হয় ঝড়। কিছুক্ষণের মধ্যেই তীব্র শিলাবৃষ্টি নামে। এই স্বল্প সময়ের প্রাকৃতিক দুর্যোগেই জেলার কৃষিখাতে বড় ধরনের ক্ষতি হয়।

মাঠ ঘুরে দেখা গেছে, পাকা ও আধাপাকা গম মাটিতে লুটিয়ে পড়েছে। শিলার আঘাতে গমের শীষ ঝরে গেছে। পাশাপাশি ভুট্টা, মরিচ, পেঁয়াজের কদম (বীজ) ও অন্যান্য সবজি ক্ষেত মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

সবচেয়ে বেশি উদ্বেগ দেখা দিয়েছে আম চাষিদের মধ্যে। মৌসুমের শুরুতেই গাছে আসা ছোট গুঁটি ঝরে পড়ায় আশঙ্কায় পড়েছেন বাগান মালিকরা।

সিংদা এলাকার পেঁয়াজ চাষি আবদুল কুদ্দুস বলেন,

“এক বিঘা জমিতে পেঁয়াজ চাষ করেছিলাম। এখনও কিছু জমির পেঁয়াজ তোলা বাকি ছিল। বৃষ্টির সময় শ্রমিকরা মাঠে কাজ করছিল, সব পেঁয়াজ পানিতে ভিজে গেছে।”

পেঁয়াজ বীজ চাষি মো. আলম জানান,

“সার, সেচ, শ্রমিক—সবকিছুর খরচ বেড়েছে। এর মধ্যে এই শিলাবৃষ্টি আমাদের বড় ক্ষতির মুখে ফেলেছে।”

আম চাষি আমিনুল হক বলেন,

“মৌসুমের শুরুতেই এমন ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে অনেক গুঁটি আম ঝরে গেছে।”

এ বিষয়ে দুর্গাপুর উপজেলা কৃষি অফিসার সাহানা পারভীন লাবনী জানান, শিলাবৃষ্টিতে গম ও পেঁয়াজের ক্ষতি হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির সঠিক পরিমাণ পরবর্তীতে নিরূপণ করা হবে।

অন্যদিকে আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, রাজশাহী শহরে বৃষ্টিপাত হলেও শিলাবৃষ্টি হয়নি।