বুধবার , ১লা জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ১৭ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ - বর্ষাকাল || ১৬ই মহর্‌রম, ১৪৪৮ হিজরি

রাজবাড়ীতে কোরবানির ঈদে আলোচনায় বিশাল তিন গরু ‘আকাশ ছোঁয়া’, ‘পাহাড় ঠেলা’ ও ‘ফ্যান ভাঙা’

প্রকাশিত হয়েছে- মঙ্গলবার, ১২ মে, ২০২৬

রাজবাড়ীতে আসন্ন কোরবানির ঈদকে কেন্দ্র করে ব্যতিক্রমী নাম ও বিশাল আকারের তিনটি ষাঁড় গরু স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। গরু তিনটির নাম রাখা হয়েছে—‘আকাশ ছোঁয়া’, ‘পাহাড় ঠেলা’ ও ‘ফ্যান ভাঙা’।

স্থানীয় খামারি লোকমান শেখ প্রায় সাড়ে তিন বছর ধরে অস্ট্রেলিয়ান ফ্রিজিয়ান জাতের এই গরুগুলো দেশীয় ও প্রাকৃতিক খাবারের মাধ্যমে লালন-পালন করছেন। তার দাবি অনুযায়ী, গরুগুলো জেলার সবচেয়ে বড় আকৃতির পশুগুলোর মধ্যে অন্যতম।

তথ্য অনুযায়ী, ‘আকাশ ছোঁয়া’ গরুটির ওজন প্রায় ২২ মন, ‘পাহাড় ঠেলা’ ২০ মন এবং ‘ফ্যান ভাঙা’ ১৫ মন। প্রতিটি গরুর নামকরণ করা হয়েছে তাদের আকার, আচরণ ও খামারের ঘটনাকে কেন্দ্র করে।

লোকমান শেখ জানান, প্রায় ৪০ বছর আগে মাত্র ২,৯০০ টাকা দিয়ে একটি বাছুর কিনে তিনি গরু পালন শুরু করেন। সেই একটি বাছুর থেকেই তার খামারের যাত্রা শুরু হয়ে বর্তমানে বড় পরিসরে পৌঁছেছে। এখন পর্যন্ত তিনি গরু বিক্রি করে প্রায় ১ কোটি টাকার বেশি আয় করেছেন।

তিনি আরও জানান, গরুগুলোকে সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক খাবার যেমন খড়, ভুট্টা, গমের ছাল ও ঘাস খাওয়ানো হয়েছে। কোনো ধরনের হরমোন বা ক্ষতিকর ওষুধ ব্যবহার করা হয়নি। প্রতিটি গরুর দৈনিক খাদ্য খরচ প্রায় ৫০০ টাকা।

লোকমান শেখের স্ত্রী রাহেলা খাতুন বলেন, এই খামারের মাধ্যমেই তারা জীবনে আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হয়েছেন এবং ঘরবাড়ি ও ব্যাংক সঞ্চয় গড়েছেন।

রাজবাড়ী জেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর জানিয়েছে, এ বছর জেলায় প্রায় ৭০ হাজার কোরবানিযোগ্য পশু প্রস্তুত রয়েছে। তবে বড় গরুর স্থানীয় চাহিদা কম হওয়ায় অনলাইন ও সরাসরি প্রচারের মাধ্যমে বিক্রির পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।