রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে যোগ্য ব্যক্তিদের পদোন্নতি থেকে বঞ্চিত করা মানবতার ওপর আঘাত বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।
শনিবার (১৮ জুলাই) বিকেলে রাজধানীর একটি হোটেলে ‘বাংলাদেশ কার্ডিয়াক সোসাইটি’ আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
রিজভী বলেন, রাজনৈতিক বিবেচনায় কাউকে এগিয়ে দেওয়া আর কাউকে পিছিয়ে রাখা হলে তা দেশের মানুষের ক্ষতি করে। দীর্ঘদিন ধরে এমন বৈষম্যের কারণে অনেক মেধাবী মানুষ তাদের প্রাপ্য সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়েছেন।
তিনি বলেন, অনেক মেধাবী শিক্ষার্থী রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে চাকরি ও পদোন্নতিতে পিছিয়ে পড়েছেন। যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও অনেকে বছরের পর বছর একই পদে থেকে গেছেন এবং দেশের বিভিন্ন প্রান্তে অবহেলার শিকার হয়েছেন।
ভালো চিকিৎসকদের মূল্যায়নের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে রিজভী বলেন, কোনো চিকিৎসক যদি দক্ষ হন এবং রোগীদের প্রতি নিবেদিতপ্রাণ হন, তাহলে তার রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনা করে তাকে বঞ্চিত করা উচিত নয়। এ ধরনের সিদ্ধান্ত দেশের মেধার অপচয় ঘটায়।
তিনি অভিযোগ করেন, বিগত সময়ে অনেক চিকিৎসক ও পেশাজীবী পারিবারিক বা রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে পদোন্নতি থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। যোগ্যতা, গবেষণা ও প্রকাশনা থাকা সত্ত্বেও অনেকে কাঙ্ক্ষিত পদে যেতে পারেননি।
রিজভী বলেন, পরিবর্তিত পরিস্থিতির কারণে এখন এসব ক্ষেত্রে নতুন সুযোগ তৈরি হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, যোগ্যতা ও দক্ষতার ভিত্তিতে মূল্যায়নের সংস্কৃতি আরও শক্তিশালী হবে।
তিনি আরও বলেন, কোনো দেশের নেতৃত্বে যদি পুরো দেশের মানুষের প্রতিনিধিত্ব না থাকে, তাহলে প্রকৃত অর্থে সেই নেতৃত্ব সফল হতে পারে না। দীর্ঘদিনের বৈষম্যের কারণে অনেক মেধাবী মানুষ দেশ ছেড়ে চলে গেছেন, আবার অনেকে নিজেদের বিকাশের সুযোগ হারিয়েছেন।
স্বাস্থ্য খাত প্রসঙ্গে রিজভী বলেন, চিকিৎসা ও শিক্ষা খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধি ইতিবাচক দিক। বিশেষ করে ক্যান্সার, কিডনি, থ্যালাসেমিয়া ও হৃদরোগের মতো জটিল রোগের চিকিৎসা ব্যয় কমানোর উদ্যোগ জনগণের জন্য সহায়ক হবে।
তিনি বলেন, জনগণের কাছে জবাবদিহিমূলক সরকারের দায়িত্ব হলো মানুষের মৌলিক সেবা সহজলভ্য করা এবং যোগ্যতার যথাযথ মূল্যায়ন নিশ্চিত করা।