রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে বোতলজাত সয়াবিন তেলের সরবরাহ সংকট এখনো কাটেনি। অধিকাংশ মুদি দোকানে সপ্তাহের বেশি সময় ধরে বোতলজাত সয়াবিন তেল পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে অনেক দোকানি বিকল্প হিসেবে তুলনামূলক বেশি দামের ক্যানোলা তেল বিক্রির দিকে ঝুঁকছেন।
বুধবার (১১ মার্চ) ঢাকার সবুজবাগ, মুগদা, মানিকনগর ও খিলগাঁও এলাকার বাজার ঘুরে দেখা যায়, অধিকাংশ দোকানে এক ও দুই লিটারের বোতলজাত সয়াবিন তেল নেই। কোথাও কোথাও পাঁচ লিটারের বোতল পাওয়া গেলেও সেটিও সীমিত।
বাজারে সরবরাহ কম
মুগদা বাজারের রহমান জেনারেল স্টোরের স্বত্বাধিকারী মো. এমদাদুল জানান, প্রায় এক সপ্তাহ ধরে চাহিদা অনুযায়ী এক ও দুই লিটারের বোতলজাত তেলের সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে না। আগে ডিলার পর্যায় থেকে যে কমিশন দেওয়া হতো সেটিও কমে গেছে।
তিনি বলেন, আগে পাঁচ লিটারের বোতল ডিলাররা প্রায় ৯৩০ টাকায় দিতেন। এখন সেটি ৯৪০ থেকে ৯৪৫ টাকায় দিতে হচ্ছে। ফলে বোতলে লেখা ৯৫৫ টাকার নিচে বিক্রি করা কঠিন হয়ে পড়েছে। আগে কমিশন বেশি থাকায় ৯৪৫ থেকে ৯৫০ টাকায় বিক্রি করা যেত।
খোলা তেলের দামও বেড়েছে
বোতলজাত তেলের সংকটের কারণে খোলা সয়াবিন তেলের দামও বেড়েছে। বর্তমানে রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে খোলা সয়াবিন তেল ২০৮ থেকে ২১০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
রমজানের শুরুতে খোলা তেলের দাম ছিল ১৯৫ থেকে ২০০ টাকা কেজি। গত সপ্তাহেও তা ২০০ থেকে ২০৫ টাকার মধ্যে ছিল।
সুপারশপেও সীমিত বিক্রি
চেইন সুপারশপ Shwapno-এর মানিকনগর শাখায় খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত শনিবারের পর কয়েকদিন বোতলজাত সয়াবিন তেলের সরবরাহ ছিল না। বুধবার আবার Fresh ব্র্যান্ডের কিছু তেল এসেছে, তবে বিক্রি সীমিত রাখা হয়েছে।
সুপারশপ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, একজন ক্রেতা দিনে সর্বোচ্চ এক লিটারের তিনটি, দুই লিটারের দুটি অথবা পাঁচ লিটারের একটি বোতল কিনতে পারবেন।
বাজারসংশ্লিষ্টরা বলছেন, সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে সামনে ভোজ্যতেলের বাজারে আরও অস্থিরতা তৈরি হতে পারে।