বুধবার , ১লা জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ১৭ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ - বর্ষাকাল || ১৬ই মহর্‌রম, ১৪৪৮ হিজরি

রাজক্ষমার পর পুরোপুরি মুক্ত থাকসিন সিনাওয়াত্রা

প্রকাশিত হয়েছে- মঙ্গলবার, ৯ জুন, ২০২৬

থাইল্যান্ডের সাবেক প্রধানমন্ত্রী থাকসিন সিনাওয়াত্রা আনুষ্ঠানিকভাবে সম্পূর্ণ মুক্তি পেয়েছেন। রাজক্ষমা পাওয়ার এক সপ্তাহেরও কম সময়ের মধ্যে মঙ্গলবার দেশটির কারা বিভাগ তার মুক্তির বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের মামলায় এক বছরের কারাদণ্ডপ্রাপ্ত থাকসিন বয়স ও শারীরিক অসুস্থতার কারণে গত মাসে প্যারোলে মুক্তি পান। ৭৬ বছর বয়সী এই সাবেক প্রধানমন্ত্রী আট মাস সাজা ভোগের পর কারাগার থেকে বের হওয়ার সুযোগ পান।

প্যারোলের শর্ত অনুযায়ী তার পায়ে একটি ইলেকট্রনিক মনিটরিং ডিভাইস (ইএমডি) পরানো হয়েছিল। তবে মঙ্গলবার থাইল্যান্ডের কারা বিভাগ জানায়, তার পা থেকে ওই ডিভাইস সরিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং তাকে আনুষ্ঠানিক মুক্তির নথিপত্র ও খালাসের সনদ প্রদান করা হয়েছে।

কারা বিভাগের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, থাকসিন এখন আর কোনো ফৌজদারি শাস্তি, নজরদারি বা সংশ্লিষ্ট বিধিনিষেধের আওতায় নেই। একই নিয়ম রাজক্ষমা পাওয়া অন্যান্য যোগ্য বন্দিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য।

গত ৩ জুন রানি সুথিদা-র জন্মদিন উপলক্ষে ঘোষিত রাজক্ষমার তালিকায় থাকসিনের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়। থাইল্যান্ডে রাজপরিবারের গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠান ও উৎসব উপলক্ষে ভালো আচরণকারী বন্দিদের নিয়মিত রাজক্ষমা দেওয়া হয়ে থাকে।

আধুনিক থাই রাজনীতির অন্যতম প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব থাকসিন সিনাওয়াত্রা দুই মেয়াদে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তবে ২০০৬ সালে সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে তার সরকারের পতন ঘটে। এরপর তিনি দীর্ঘ সময় স্বেচ্ছানির্বাসনে ছিলেন, যার বেশিরভাগ সময় কাটান দুবাই-এ। ২০২৩ সালে তিনি দেশে ফিরে আসেন।

গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সম্পূর্ণ মুক্তি পাওয়ার পর চলতি মাসেই তিনি দুবাই সফরে যেতে পারেন। যদিও সম্ভাব্য সফরের উদ্দেশ্য সম্পর্কে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি।

উল্লেখ্য, থাকসিনের প্রতিষ্ঠিত ফেউ থাই পার্টি এবং এর পূর্বসূরি দলগুলো দীর্ঘদিন ধরে থাইল্যান্ডের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। সিনাওয়াত্রা পরিবার থেকে এখন পর্যন্ত চারজন প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন। তবে সাম্প্রতিক নির্বাচনে দলটির খারাপ ফলাফল থাকসিনের রাজনৈতিক প্রভাব নিয়ে নতুন আলোচনা তৈরি করেছে।