সোমবার , ৬ই জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ২২শে আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ - বর্ষাকাল || ২১শে মহর্‌রম, ১৪৪৮ হিজরি

রাইসমিলে মালিককে বেঁধে হত্যার পর ৩ ট্রান্সফর্মার লুট, তদন্তে পুলিশ

প্রকাশিত হয়েছে- সোমবার, ৬ জুলাই, ২০২৬

 

 

 

বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলায় এক রাইসমিল মালিককে হাত-পা ও মুখ বেঁধে হত্যার পর মিল থেকে তিনটি বৈদ্যুতিক ট্রান্সফর্মার চুরি করে নিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা। নৃশংস এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে মরদেহ উদ্ধার করেছে এবং হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্তে তদন্ত শুরু করেছে।

রোববার (৫ জুলাই) গভীর রাত থেকে সোমবার (৬ জুলাই) সকাল ৭টার মধ্যে উপজেলার ফেনিরগ্রাম ফুলতলা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহত মোহাম্মদ আলী (৭০) ফেনিরগ্রাম পূর্বপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। তিনি দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকায় একটি রাইসমিল পরিচালনা করতেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রতিদিনের মতো রোববার রাতে মোহাম্মদ আলী নিজের রাইসমিলেই অবস্থান করছিলেন। রাতের কোনো এক সময় দুর্বৃত্তরা মিলে প্রবেশ করে তাকে প্রথমে হাত-পা ও মুখ বেঁধে ফেলে। পরে মাথায় আঘাত করে তাকে হত্যা করা হয়। হত্যাকাণ্ডের পর মিলে থাকা তিনটি বৈদ্যুতিক ট্রান্সফর্মার খুলে নিয়ে পালিয়ে যায় তারা।

সোমবার সকালে স্থানীয় লোকজন রাইসমিলে গিয়ে মোহাম্মদ আলীকে অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে পুলিশকে খবর দেয়। খবর পেয়ে শিবগঞ্জ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।

প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ ধারণা করছে, ট্রান্সফর্মার চুরির উদ্দেশ্যেই দুর্বৃত্তরা রাইসমিলে প্রবেশ করেছিল। তবে হত্যাকাণ্ডের পেছনে অন্য কোনো কারণ রয়েছে কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

শিবগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীনুজ্জামান জানান, দুর্বৃত্তরা মোহাম্মদ আলীকে বেঁধে মাথায় আঘাত করে হত্যা করেছে। এরপর তারা রাইসমিল থেকে তিনটি ট্রান্সফর্মার নিয়ে যায়। ঘটনায় কতজন জড়িত এবং কীভাবে তারা পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করেছে, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

তিনি আরও জানান, ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন এবং জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক দল কাজ করছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এবং তদন্তের অগ্রগতির ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।