বুধবার , ১লা জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ১৭ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ - বর্ষাকাল || ১৬ই মহর্‌রম, ১৪৪৮ হিজরি

রমনায় পান্তা-ইলিশের দাম আকাশছোঁয়া—এক প্লেট ৬০০ টাকা, ক্ষোভে দর্শনার্থীরা

প্রকাশিত হয়েছে- মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল, ২০২৬

পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে রাজধানীর রমনা পার্ক এলাকায় ঐতিহ্যবাহী পান্তা-ইলিশ উৎসবের চিত্রে এ বছর দেখা গেছে বড় ধরনের পরিবর্তন। একসময় যেখানে পার্কজুড়ে অসংখ্য অস্থায়ী দোকানে পান্তা-ইলিশের পসরা বসত, সেখানে এবার সেই চিরচেনা দৃশ্য প্রায় অনুপস্থিত।

মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) সরেজমিনে দেখা যায়, পুরো রমনা এলাকায় কোনো অস্থায়ী পান্তা-ইলিশের দোকান বসেনি। ফলে দর্শনার্থীদের জন্য এই জনপ্রিয় খাবারটি পাওয়া গেছে কেবল পার্কের একটি স্থায়ী রেস্টুরেন্টে। সেখানে ছোট আকারের এক টুকরো ইলিশ মাছ, পান্তা ভাত ও বেগুন ভাজি দিয়ে সাজানো একটি প্যাকেজ বিক্রি হচ্ছে ৬০০ টাকায়।

এই উচ্চমূল্য নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন সাধারণ মানুষ। অনেকেই বলছেন, আগের বছরগুলোর তুলনায় এবার পহেলা বৈশাখের আনন্দে যেন কিছুটা ভাটা পড়েছে। বিশেষ করে পরিবারের সদস্যদের আবদার মেটাতে গিয়ে বাড়তি দাম দিতে হচ্ছে বলে ক্ষোভ জানিয়েছেন অনেকে।

শুধু রমনা পার্কেই নয়, রাজধানীর অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ স্থানেও এ বছর অস্থায়ীভাবে পান্তা-ইলিশ বিক্রির দৃশ্য দেখা যায়নি। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মার্চ-এপ্রিল মাসে ইলিশের প্রজনন মৌসুমকে কেন্দ্র করে সরকার ঘোষিত অভয়ারণ্যের নিষেধাজ্ঞা এবং বাজারে ইলিশের স্বল্প সরবরাহের কারণে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে মাছের উচ্চমূল্য, যা অস্থায়ী বিক্রেতাদের নিরুৎসাহিত করেছে।

রেস্টুরেন্ট কর্তৃপক্ষ জানায়, তারা তুলনামূলক বড় আকারের ইলিশ কিনে তা ছোট টুকরো করে পরিবেশন করছেন। বাজারে মাছের দাম বেশি হওয়ায় প্যাকেজের মূল্যও বেশি নির্ধারণ করতে হয়েছে।

বাঙালির বর্ষবরণে পান্তা-ইলিশ একটি আবেগঘন ও সাংস্কৃতিক প্রতীক। তবে এবারের উচ্চমূল্য ও সীমিত প্রাপ্যতা সেই ঐতিহ্যকে অনেকটাই সংকুচিত করেছে বলে মনে করছেন নগরবাসী।