রমজানকে সামনে রেখে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি, সরকারি হাসপাতালে ভুয়া বিল-ভাউচারের মাধ্যমে অর্থ আত্মসাৎ এবং সড়ক নির্মাণে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগে দেশের তিনটি স্থানে এনফোর্সমেন্ট অভিযান পরিচালনা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
রোববার (২ ফেব্রুয়ারি) চট্টগ্রাম বন্দর, নীলফামারী ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট সদর হাসপাতাল এবং পটুয়াখালীর কুয়াকাটা সৈকত সংলগ্ন সড়কে একযোগে এসব অভিযান চালানো হয়। দুদকের জনসংযোগ দপ্তর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
চট্টগ্রাম বন্দরে রমজানকেন্দ্রিক বাজার কারসাজির অভিযোগে দুদকের চট্টগ্রাম জেলা কার্যালয়ের একটি টিম অভিযান পরিচালনা করে। অভিযোগ রয়েছে, অসাধু আমদানিকারক ও সংশ্লিষ্টদের যোগসাজশে লাইটার জাহাজে দীর্ঘদিন পণ্য খালাস না করে নদী ও সমুদ্রে ভাসমান গুদাম হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে, যাতে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে পণ্যের দাম বাড়ানো যায়। অভিযানে বন্দর কর্তৃপক্ষের বিভিন্ন রেকর্ডপত্র পর্যালোচনা করা হয় এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বক্তব্য গ্রহণ করা হয়।
এদিকে নীলফামারী সদর হাসপাতালে বিভিন্ন খাতে ভুয়া বিল-ভাউচার তৈরি করে সরকারি অর্থ আত্মসাৎ এবং রোগীদের চিকিৎসাসেবায় হয়রানির অভিযোগে রংপুর দুদক সমন্বিত জেলা কার্যালয় থেকে পৃথক অভিযান পরিচালনা করা হয়। প্রাথমিক যাচাইয়ে হাসপাতালের মালামাল ক্রয়সংক্রান্ত নথিতে একাধিক অসামঞ্জস্যতা পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে দুদক।
অন্যদিকে পটুয়াখালীর কুয়াকাটা সৈকত সংলগ্ন সড়ক নির্মাণে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার ও কাজের শিডিউল না মানার অভিযোগে দুদকের পটুয়াখালী সমন্বিত জেলা কার্যালয় অভিযান চালায়। সরেজমিন পরিদর্শনে একজন নিরপেক্ষ প্রকৌশলীর উপস্থিতিতে সড়কের দৈর্ঘ্য, প্রস্থ ও কার্পেটিংয়ের পুরুত্ব পরিমাপ করা হয়।
দুদক জানিয়েছে, তিনটি অভিযানে সংগৃহীত তথ্য, রেকর্ডপত্র ও সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য পর্যালোচনা শেষে কমিশনের কাছে পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন দাখিল করা হবে। যাচাই শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।