পবিত্র রমজান উপলক্ষে ইতিহাসে প্রথমবারের মতো বেলজিয়ামের ঘেন্ট শহরের সড়কজুড়ে আলোকসজ্জা বসানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শহরের দুটি ব্যস্ত বাণিজ্যিক এলাকায় এ বিশেষ রমজান ডেকোরেশন স্থাপন করা হবে। আয়োজকদের মতে, এটি শুধু ধর্মীয় আয়োজন নয়; বরং শহরের সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের স্বীকৃতি।
ঘেন্ট সিটি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, রমজান শুরুর কয়েক দিন আগে ব্রুগসে পোর্ট এলাকার বেভ্রাইডিংসলান-ফিনিক্সস্ট্রাট এবং রাবোট জেলার ভন্ডেলগেমস্ট্রাটে আলোকসজ্জা বসানো হবে। এই দুটি এলাকা শহরের প্রাণবন্ত ব্যবসাকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত এবং এখানকার উল্লেখযোগ্যসংখ্যক দোকান মালিক মুসলিম।
উদ্যোগটির সমন্বয় করছে অ্যাসোসিয়েশন অব ঘেন্ট মস্কস (ভিজিএম)। ফ্ল্যান্ডার্স নিউজের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় একশ স্থানীয় ব্যবসায়ী এ প্রকল্পকে সমর্থন জানিয়েছেন। দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা এমন উদ্যোগের দাবি জানিয়ে আসছিলেন।
ব্রুগসে পোর্ট এলাকার দোকান মালিক ফাতিহ সেনেল জানান, অবশেষে এই উদ্যোগ বাস্তবায়ন হওয়ায় তারা উচ্ছ্বসিত। ভিজিএমের প্রতিনিধি মোহাম্মদ আবদেল মোটলেব ওমর বলেন, নকশায় থাকবে প্রাচ্য ঘরানার ছোঁয়া, যা অনেকটা বড়দিনের আলোকসজ্জার মতো হলেও আলাদা বৈশিষ্ট্য বহন করবে। লন্ডনে গত চার বছর ধরে রমজানের আলোকসজ্জা সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানই ঘেন্টের ডেকোরেশন প্রস্তুত করছে।
ইতোমধ্যে জার্মানির কোলোন ও নেদারল্যান্ডসের কয়েকটি শহরে রমজান উপলক্ষে আলোকসজ্জা দেখা গেছে। ব্রাসেলসে সীমিত পরিসরে এমন উদ্যোগ থাকলেও ঘেন্টের আয়োজন তুলনামূলকভাবে বড় আকারের বলে মনে করা হচ্ছে।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, রমজান শুরুর আগের সপ্তাহে—প্রায় ১৯ ফেব্রুয়ারির দিকে—আলোকসজ্জা স্থাপন করা হবে এবং ঈদুল ফিতর পর্যন্ত তা থাকবে। প্রতিদিন সূর্যাস্তের সময়, ইফতারের সঙ্গে মিল রেখে আলো জ্বালানো হবে।
আয়োজকদের ধারণা, বড়দিনের মতো রমজানেও সন্ধ্যার পর এসব এলাকায় মানুষের চলাচল ও কেনাকাটা বাড়বে, যা স্থানীয় ব্যবসায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। ভিজিএম নিজস্ব অর্থায়নে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে; যদিও মোট বাজেট প্রকাশ করা হয়নি। ঘেন্ট সিটি করপোরেশন প্রয়োজনীয় অনুমতি দিয়েছে, যা শহরের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য উদযাপনে প্রশাসনিক সমর্থনের প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে।