রংপুরে জিয়াউর রহমানকে স্মরণ: রাষ্ট্রচিন্তা, গণতন্ত্র ও উন্নয়ন দর্শন নিয়ে আলোচনা সভা
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের জীবন, কর্ম, রাজনৈতিক দর্শন ও রাষ্ট্রগঠনে অবদান নিয়ে রংপুরে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। বক্তারা বলেছেন, জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের জাতীয় ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়, যার রাষ্ট্রচিন্তা, নেতৃত্বগুণ ও আত্মত্যাগ আজও দেশের রাজনীতি ও উন্নয়নের ক্ষেত্রে প্রাসঙ্গিক।
শনিবার (৩০ মে) দুপুরে রংপুর জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে আয়োজিত আলোচনা সভা ও দোয়া অনুষ্ঠানে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ, রাজনৈতিক নেতা, শিক্ষাবিদ, চিকিৎসক ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা অংশ নেন।
সিনিয়র আইনজীবী আব্দুর রশীদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. শওকাত আলী। তিনি বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ছিলেন মুক্তিযুদ্ধের একজন সাহসী সেক্টর কমান্ডার এবং যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশ পুনর্গঠনের অন্যতম স্থপতি। স্বাধীনতার পর দেশের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
আলোচনা সভায় অংশ নিয়ে বক্তারা বলেন, ১৯৭৫ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর জাতীয় রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ নেতৃত্ব হিসেবে আবির্ভূত হন জিয়াউর রহমান। তিনি রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ করে রাজনৈতিক অস্থিরতা দূর এবং প্রশাসনিক শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেন।
বক্তারা আরও বলেন, জিয়াউর রহমানের অন্যতম বড় অবদান ছিল দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্রের পুনঃপ্রবর্তন। তিনি বিশ্বাস করতেন, গণতন্ত্র কেবল একটি শাসনব্যবস্থা নয়; বরং এটি মানুষের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, রাজনৈতিক অংশগ্রহণ এবং জাতীয় ঐক্যের ভিত্তি। তার উদ্যোগে দেশের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে নতুন গতি ফিরে আসে এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দল পুনর্গঠনের সুযোগ পায়।
আলোচকরা উল্লেখ করেন, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা ও রাজনৈতিক মতপ্রকাশের ক্ষেত্রেও জিয়াউর রহমান নতুন পরিবেশ সৃষ্টি করেছিলেন। তিনি জাতীয় রাজনীতিতে “বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ” ধারণা প্রতিষ্ঠা করেন, যা ভাষা, সংস্কৃতি, ভূখণ্ড, স্বাধীনতার চেতনা এবং ধর্মীয় মূল্যবোধের সমন্বয়ে একটি স্বতন্ত্র জাতীয় পরিচয় গঠনের চেষ্টা ছিল।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন রংপুর মেডিকেল কলেজের ভাইস প্রিন্সিপাল ডা. জহুরুল হক, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. ফেরদৌস রহমান, বীর মুক্তিযোদ্ধা নুর মোহাম্মদ, রংপুর সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি সালেকুজ্জামান সালেক, ড্যাবের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি ডা. নিখিলেন্দু শংকর গুহ রায়, চিকিৎসক নেতা ডা. জাবেদ আখতার এবং অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক অধ্যাপক ওবায়দুল করিম।
বক্তারা জিয়াউর রহমানের গ্রামীণ অর্থনীতি উন্নয়ন, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, স্থানীয় সরকার শক্তিশালীকরণ এবং আধুনিক বাংলাদেশ গঠনের বিভিন্ন উদ্যোগের কথাও স্মরণ করেন। তারা বলেন, দেশের উন্নয়ন ও আত্মনির্ভরশীলতা অর্জনে তার বিভিন্ন কর্মসূচি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট রেজেকা সুলতানা ফেন্সি, রংপুর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ও মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট মাহফুজ উন-নবী চৌধুরী ডন, মহানগর বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক শহিদুল ইসলাম মিজুসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।
আলোচনা সভা শেষে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।
অন্যদিকে দিবসটি উপলক্ষে রংপুর জেলা বিএনপির উদ্যোগে নগরীর গ্র্যান্ড হোটেল মোড়ে দলীয় কার্যালয়ে আলোচনা সভা, দোয়া মাহফিল এবং দুস্থদের মাঝে খাবার বিতরণ কর্মসূচি পালন করা হয়। এতে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও জেলা পরিষদের প্রশাসক সাইফুল ইসলাম প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন।
এছাড়াও মহানগর বিএনপি, মুক্তিযোদ্ধা দল, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, কৃষক দল ও ছাত্রদলের উদ্যোগে নগরীর বিভিন্ন স্থানে অসহায় ও দুস্থ মানুষের মাঝে খাবার বিতরণ এবং দোয়া অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। দিনব্যাপী এসব কর্মসূচির মাধ্যমে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের অবদান স্মরণ করা হয়।