বুধবার , ১লা জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ১৭ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ - বর্ষাকাল || ১৬ই মহর্‌রম, ১৪৪৮ হিজরি

রংপুরে আবু সাঈদ হত্যার মামলায় তদন্ত ত্রুটিপূর্ণ দাবি আসামিপক্ষের আইনজীবীর

প্রকাশিত হয়েছে- বৃহস্পতিবার, ৫ মার্চ, ২০২৬

রংপুর বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় (বেরোবি)-এর শিক্ষার্থী আবু সাঈদকে (জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রথম শহীদ) লাঠিচার্জ করেছিলেন ছয়জন পুলিশ সদস্য। তবে অভিযোগপত্রে মাত্র একজন পুলিশ সদস্যকে আসামি করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন ত্রুটিপূর্ণ হয়েছে বলে দাবি করেছেন আসামিপক্ষের আইনজীবী আজিজুর রহমান দুলু।

বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) রায় ঘোষণার দিন ধার্যের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় দুলু জানান, তিনি আসামি এএসআই আমির হোসেন, কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায় এবং বেরোবির কর্মচারী আনোয়ার পারভেজের বেকসুর খালাস চেয়ে মামলা পরিচালনা করছেন।

দুলু আরও জানান, আবু সাঈদের শরীরে রেডিওগ্রাফিক বা এক্স-রে পরীক্ষায় গুলির কোনো অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। তার গলা থেকে কোমর পর্যন্ত পরা কালো টি-শার্টেও কোনো ছিদ্র ছিল না, যা তদন্ত কর্মকর্তা স্বীকার করেছেন। ফলে গুলির কারণে মৃত্যু হয়েছে, সেটি সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়নি।

আইনজীবী ফৌজদারি আইনের দৃষ্টিকোণ থেকে উল্লেখ করেন, লাঠিকে ‘অস্ত্র’ হিসেবে গণ্য করা হয়। আবু সাঈদের হাতে লাঠি ছিল এবং তিনি তা দিয়ে পুলিশের আঘাত ঠেকানোর চেষ্টা করেছিলেন।

তিনি বলেন, আবু সাঈদকে নিরস্ত্র ও শান্তিপূর্ণ সিভিলিয়ান হিসেবে ধরে এই মামলাটি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের এখতিয়ারের মধ্যে আনা কতটা যৌক্তিক, তা আদালতের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে। তবে আবু সাঈদ একজন বীরত্বপূর্ণ আন্দোলনকারী ছিলেন এবং রাষ্ট্র তার বীরত্বকে স্বীকৃতি দিয়েছে, এ বিষয়ে তার কোনো দ্বিমত নেই।

প্রসিকিউটর মঈনুল করিম জানান, মামলার রায় ঘোষণার জন্য আগামী ৯ এপ্রিল ট্রাইব্যুনাল দিন নির্ধারণ করেছেন। তদন্তে ২৫ জনের সাক্ষ্য নেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে প্রত্যক্ষদর্শী, সাংবাদিক, চিকিৎসক, পুলিশ ও বিশেষজ্ঞ রয়েছেন। তিনি বলেন, সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ পাওয়া গেছে, তাই আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তি আশা করা যাচ্ছে।