বুধবার , ১লা জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ১৭ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ - বর্ষাকাল || ১৬ই মহর্‌রম, ১৪৪৮ হিজরি

যৌন নির্যাতন মামলায় উবারকে ৮.৫ মিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ দিতে নির্দেশ ফেডারেল জুরির

প্রকাশিত হয়েছে- রবিবার, ৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

এক নারী যাত্রীর দায়ের করা যৌন নির্যাতন মামলায় রাইড শেয়ারিং প্রতিষ্ঠান উবারকে ৮.৫ মিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ দিতে নির্দেশ দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের একটি ফেডারেল জুরি। এই রায় ভবিষ্যতে উবারের বিরুদ্ধে চলমান ও আসন্ন হাজারো মামলার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ নজির হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, জেইলিন ডিন নামের এক নারী ২০২২ সালের নভেম্বরে উবারে যাত্রার সময় ড্রাইভার কর্তৃক ধর্ষণের শিকার হন। ঘটনার পর ২০২৩ সালে তিনি উবারের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। মামলায় অভিযোগ করা হয়, উবার যাত্রীদের জন্য “নিরাপদ যাত্রা”র যে প্রতিশ্রুতি দেয়, বাস্তবে তা নিশ্চিত করতে প্রতিষ্ঠানটি পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেয়নি।

অ্যারিজোনা অঙ্গরাজ্যের একটি ফেডারেল আদালতে মামলাটির শুনানি হয়। জুরি তাদের রায়ে বলেন, অভিযুক্ত ড্রাইভার ঘটনার সময় উবারের হয়ে কাজ করছিলেন। ফলে তাকে উবারের প্রতিনিধি হিসেবে গণ্য করা হবে এবং সেই দায় কোম্পানির ওপর বর্তায়। এই যুক্তিতেই উবারকে ক্ষতিপূরণ প্রদানের নির্দেশ দেওয়া হয়।

তবে জুরি উবারকে সরাসরি অবহেলার দায়ে দোষী সাব্যস্ত করেননি। তারা উবারের নিরাপত্তা ব্যবস্থার কাঠামোগত ত্রুটি বা ইচ্ছাকৃত গাফিলতির অভিযোগও গ্রহণ করেননি। এ কারণে অতিরিক্ত শাস্তিমূলক ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়নি। এরপরও ভুক্তভোগী ডিনকে ৮.৫ মিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ দেওয়ার রায় দেওয়া হয়।

ডিনের আইনজীবী র‍্যাচেল অ্যাব্রামস রায়কে ‘শুরু মাত্র’ বলে মন্তব্য করেছেন। তার ভাষায়, এটি ছিল একটি পরীক্ষামূলক মামলা, যা ভবিষ্যতের মামলাগুলোর দিকনির্দেশ দেবে। বর্তমানে একই ধরনের প্রায় তিন হাজার মামলা যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল আদালতগুলোতে বিচারাধীন রয়েছে।

উবারের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরেই যৌন নির্যাতনের অভিযোগ উঠে আসছে। ২০১৮ সালের এক অনুসন্ধানে দেখা যায়, চার বছরে অন্তত ১০৩ জন উবার ড্রাইভারের বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ ছিল। পরে ২০১৯ সালে উবার নিজেই প্রকাশিত এক নিরাপত্তা প্রতিবেদনে জানায়, ২০১৭ ও ২০১৮ সালে মোট ৫,৯৮১টি যৌন নিপীড়নের অভিযোগ তারা পেয়েছিল।

উবারের সর্বশেষ নিরাপত্তা প্রতিবেদনে ২০২১ ও ২০২২ সালের তথ্য তুলে ধরা হয়। সেখানে বলা হয়, ওই দুই বছরে ২,৭১৭টি যৌন নিপীড়ন বা যৌন অসদাচরণের অভিযোগ রিপোর্ট করা হয়েছে। তবে কোম্পানির দাবি, তাদের ৯৯.৯ শতাংশের বেশি যাত্রা কোনো ধরনের নিরাপত্তা ঘটনা ছাড়াই সম্পন্ন হয়।

কোম্পানি আরও জানায়, যাত্রী নিরাপত্তা জোরদারে লাইভ লোকেশন শেয়ার, ড্রাইভারদের নিয়মিত ব্যাকগ্রাউন্ড চেক, রাইড চলাকালে অডিও রেকর্ডিং এবং নারী যাত্রীদের জন্য নারী ড্রাইভার বেছে নেওয়ার মতো সুবিধা চালু করা হয়েছে।

এদিকে উবার জানিয়েছে, তারা এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করবে। কোম্পানির এক মুখপাত্র বলেন, জুরি যেহেতু সরাসরি অবহেলার অভিযোগ গ্রহণ করেনি, এটিকে তারা নিজেদের পক্ষে একটি ইতিবাচক দিক হিসেবে দেখছে।

ফেডারেল আদালতের বাইরেও ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের আদালতে উবারের বিরুদ্ধে প্রায় ৫০০টি পৃথক মামলা চলমান রয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, এসব মামলার রায় উবারের জন্য ভবিষ্যতে বড় আর্থিক ও আইনি চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে।

ডিনের আরেক আইনজীবী বলেন, “এই লড়াই এখনো শেষ হয়নি। হাজারো ভুক্তভোগী এখনো ন্যায়বিচারের অপেক্ষায় রয়েছেন।”