বুধবার , ১লা জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ১৭ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ - বর্ষাকাল || ১৬ই মহর্‌রম, ১৪৪৮ হিজরি

যৌতুকের দাবিতে অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে নির্যাতনের অভিযোগ, গর্ভের সন্তানের মৃত্যুর পর স্বামী গ্রেপ্তার

প্রকাশিত হয়েছে- বৃহস্পতিবার, ৪ জুন, ২০২৬

চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলায় যৌতুকের দাবিতে সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে মারধর ও নির্যাতনের অভিযোগে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ভুক্তভোগী নারীর অভিযোগ, স্বামীর শারীরিক নির্যাতন ও পেটে লাথির আঘাতেই তার গর্ভের সন্তানের মৃত্যু হয়েছে।

ঘটনাটি উপজেলার সীমান্ত ইউনিয়নের কয়া গ্রামে ঘটে। অভিযুক্ত বিপ্লব (২৪) একই গ্রামের বাসিন্দা। তার স্ত্রী শিখা খাতুন (১৮) অভিযোগ করেন, বিয়ের পর থেকেই স্বামী নগদ অর্থ, মোটরসাইকেল ও মোবাইল ফোনসহ বিভিন্ন ধরনের যৌতুক দাবি করে আসছিলেন। পরিবারের আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে এসব দাবি পূরণ করা সম্ভব না হওয়ায় তাকে প্রায়ই শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের মুখে পড়তে হতো।

ভুক্তভোগীর ভাষ্যমতে, গত ৩১ মে রাতে স্বামী পুনরায় এক লাখ টাকা, একটি মোটরসাইকেল ও একটি মোবাইল ফোন দাবি করেন। দাবিকৃত জিনিসপত্র দিতে অপারগতার কথা জানালে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে শিখাকে মারধর করেন এবং তার পেটে লাথি মারেন। এতে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন।

পরে পরিবারের সদস্যরা তাকে চিকিৎসার জন্য স্থানীয় একটি ক্লিনিকে ভর্তি করেন। পরদিন আল্ট্রাসনোগ্রাম পরীক্ষায় চিকিৎসক গর্ভস্থ শিশুর কোনো হৃদস্পন্দন খুঁজে পাননি। পরবর্তী চিকিৎসা প্রক্রিয়ায় মৃত সন্তান প্রসব করেন শিখা।

এ ঘটনায় বুধবার রাতে শিখা খাতুন বাদী হয়ে জীবননগর থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলার পরপরই পুলিশ অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত বিপ্লবকে গ্রেপ্তার করে।

পুলিশ জানিয়েছে, মৃত ভ্রূণের ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। তদন্ত শেষে ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

স্থানীয়দের মতে, যৌতুকের মতো সামাজিক ব্যাধি এখনও অনেক পরিবারের জন্য ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনছে। এ ধরনের ঘটনায় কঠোর আইনি পদক্ষেপ ও সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির দাবি জানিয়েছেন তারা।