মহানবী (সা.)-এর অত্যন্ত প্রিয় ও ঘনিষ্ঠ সাহাবি ছিলেন আবু মুসা আশআরি (রা.)। তাঁর নাম মূলত আব্দুল্লাহ। আবু মুসা ছিল তাঁর উপনাম। ইয়েমেনের আশআর গোত্রের সন্তান হওয়ায় সে গোত্রের দিকে সম্বন্ধ করে তাঁকে আশআরি বলা হয়।
তিনি একাধারে অভিজ্ঞ ফিকহবিদ, মুহাদ্দিস ও চৌকস কূটনীতিবিদ সাহাবিদের অন্যতম ছিলেন। তাঁর দেহাবয়ব ছিল হালকা-পাতলা ও বেঁটে। (আত-ত্বাবাক্বাতুল কুবরা : ৪/৭৮)
তাঁর অন্যতম গুণ ছিল, পবিত্র কোরআনের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক ছিল সুগভীর। রাত-দিন যখনই সুযোগ পেতেন তিলাওয়াত করতেন। তাঁর তিলাওয়াত রাসুল (সা.) খুব বেশি পছন্দ করতেন। রাসুল (সা.) একদিন তাঁর তিলাওয়াত শুনে ইরশাদ করলেন—
একে দাউদি কণ্ঠ দেওয়া হয়েছে।’ একবার তিনি রাতে নামাজের মধ্যে উঁচু আওয়াজে কোরআন পাঠ করছিলেন। নবীজীর স্ত্রীরা তাঁর সুমধুর তিলাওয়াত শুনে জড়ো হয়ে তাঁর তিলাওয়াত শুনলেন। (আত-ত্বাবাক্বাতুল কুবরা : ৪/৮১)
একবার তিনি প্রায় তিনশত কারি/আলেমকে একত্র করে তাঁদের উদ্দেশে গুরুত্বপূর্ণ নসিহত পেশ করেন। নসিহতের একাংশ ছিল— ‘এই কোরআন তোমাদের জন্য কল্যাণ এবং অকল্যাণও। অতএব তোমরা কোরআনের অনুসরণ করো; কোরআন যেন তোমাদের অনুসরণ না করে। কারণ, যে কোরআনের অনুসরণ করবে, কোরআন তাকে জান্নাতের উদ্যানে নিয়ে পৌঁছাবে। পক্ষান্তরে কোরআন যার অনুসরণ করবে, তাকে ঘাড়ে ধরে জাহান্নামে নিয়ে ফেলবে। (হিলয়াতুল আউলিয়া : ১/২৫৭, সাহাবায়ে কেরামের আলোকিত জীবন, পৃ. ৫০৪)