শনিবার , ৪ঠা জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ২০শে আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ - বর্ষাকাল || ১৯শে মহর্‌রম, ১৪৪৮ হিজরি

যুবলীগ নেতাকে আটকের পর থানায় ৩০০ গ্রামবাসীর বিক্ষোভ, আলোচনার পর জিম্মায় মুক্তি

প্রকাশিত হয়েছে- শনিবার, ৪ জুলাই, ২০২৬

পাবনার ভাঙ্গুড়ায় সাবেক এক যুবলীগ নেতাকে আটকের প্রতিবাদে প্রায় ৩০০ গ্রামবাসী থানায় জড়ো হয়ে বিক্ষোভ করেছেন। পরে পুলিশের সঙ্গে আলোচনা শেষে শুক্রবার (৩ জুলাই) রাত সাড়ে ১১টার দিকে তাকে গ্রামবাসীর জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়।

মুক্তি পাওয়া রিপন সরকার (৪০) উপজেলার পার-ভাঙ্গুড়া ইউনিয়নের পাটুলিপাড়া গ্রামের বাসিন্দা এবং ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক যুবলীগ সভাপতি।

পুলিশ জানায়, শুক্রবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে নাশকতায় সম্পৃক্ততার সন্দেহে রিপন সরকারকে আটক করে ভাঙ্গুড়া থানায় নিয়ে আসা হয়।

তবে স্থানীয়দের দাবি, পাটুলিপাড়া এলাকায় একটি খাসজমি ও ছোট বাজারকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে গ্রামবাসীর সঙ্গে ইউনুস সরকার নামে এক ব্যক্তির বিরোধ চলছে। সরকারি জায়গা দখল করে নির্মিত একটি ঘর ভেঙে সেখানে বাজার ও অটোরিকশা স্ট্যান্ড গড়ে তোলার ঘটনায় রিপন সরকার গ্রামবাসীর পক্ষে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছিলেন। সেই বিরোধের জেরেই তাকে হয়রানিমূলকভাবে আটক করা হয়েছে বলে অভিযোগ তাদের।

রিপন সরকারকে থানায় নেওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়লে প্রায় ৩০০ গ্রামবাসী থানায় গিয়ে তার মুক্তির দাবিতে বিক্ষোভ করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ বিক্ষোভকারীদের থানা চত্বরের বাইরে সরিয়ে দেয়।

এ সময় ভাঙ্গুড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাকিউল আজম উপস্থিত জনতাকে উদ্দেশ করে বলেন,
“আমি যুবলীগের সভাপতিকে নিয়ে এসেছি। আপনারা কেন এসেছেন? আপনারা কি মব করতে চান? এই মুহূর্তে থানা এলাকা ছেড়ে চলে যান।”

পরে বিক্ষোভকারীদের পাঁচ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে থানায় আলোচনা হয়। আলোচনা শেষে রিপন সরকারকে তাদের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়।

এ বিষয়ে ওসি সাকিউল আজম বলেন, নাশকতার বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাকে আটক করা হয়েছিল। জিজ্ঞাসাবাদে তার সম্পৃক্ততার প্রমাণ না পাওয়ায় এবং গ্রামবাসীর দাবির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে তাকে তাদের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।