সোমবার , ২৭শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ১২ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ - বর্ষাকাল || ১৩ই সফর, ১৪৪৮ হিজরি

যুবদল নেতা বাবুকে হত্যার জন্য ২৫ লাখ টাকার চুক্তি, লক্ষ্যভ্রষ্ট গুলিতে নিহত ইউসুফ: ডিবি

প্রকাশিত হয়েছে- সোমবার, ২৭ জুলাই, ২০২৬


রাজধানীর মিরপুরে যুবদল কর্মী মো. ইউসুফ আলী হত্যাকাণ্ডের মূল রহস্য উদ্ঘাটনের দাবি করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। সংস্থাটির দাবি, কাফরুল থানা যুবদলের সদস্যসচিব হাফিজুল ইসলাম বাবুকে হত্যার উদ্দেশ্যে ২৫ লাখ টাকার চুক্তিতে মাগুরা ও ঝিনাইদহ থেকে চার পেশাদার শুটার ভাড়া করা হয়েছিল। তবে পরিকল্পিত হামলায় লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে গুলিতে নিহত হন যুবদল কর্মী ইউসুফ।

এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত আটজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তাররা হলেন—চঞ্চল, জিহাদ মোল্লা (৩০), জিয়ারুল মোল্লা (৩৯), মাসুম বিল্লাহ (২৮), নাহিদ হাসান (২১), আবির হাওলাদার (২৫), আলী হোসেন (৪৫) ও শাফিন আহমেদ (২২)।

সোমবার (২৭ জুলাই) রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) শফিকুল ইসলাম।

ডিবি জানায়, কাফরুল থানার ওপেক্স গার্মেন্টসের দক্ষিণ পাশের লিংক রোডে সশস্ত্র দুর্বৃত্তদের গুলিতে যুবদল কর্মী ইউসুফ নিহত হন। একই ঘটনায় সবজি বিক্রেতা নালাম সরদার ও মো. মনির হোসেন গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হন। হামলার পর পালানোর সময় স্থানীয় জনতা অস্ত্রসহ চঞ্চলকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেয়।

নিহত ইউসুফের বড় ভাই মো. মাসুদ রানা বাদী হয়ে কাফরুল থানায় হত্যা মামলা করেন। পরে থানা পুলিশের পাশাপাশি ডিবির মিরপুর বিভাগ ছায়া তদন্ত শুরু করে। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় প্রথমে নাহিদ হাসান ও শাফিন আহমেদকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বিভিন্ন জেলা থেকে জিয়ারুল, আলী হোসেন, জিহাদ মোল্লা ও মাসুম বিল্লাহকে গ্রেপ্তার করা হয়। অপরদিকে, আবির হাওলাদারকে স্থানীয় জনতা আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করে।

ডিবির দাবি, কাফরুল থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক হাফিজুর রহমান হাফিজ ওরফে সিএনজি হাফিজের সঙ্গে কাফরুল থানা যুবদলের সদস্যসচিব হাফিজুল ইসলাম বাবুর দীর্ঘদিনের বিরোধ ছিল। স্থানীয় ময়লার টেন্ডার, ফুটপাতের দোকান, ব্যবসা এবং একটি টিনশেড বাড়ির দখলকে কেন্দ্র করে এই বিরোধের সূত্রপাত। এর জেরেই বাবুকে হত্যার জন্য মাগুরা ও ঝিনাইদহ অঞ্চল থেকে প্রায় ২৫ লাখ টাকার বিনিময়ে পেশাদার খুনি ভাড়া করা হয় বলে জানিয়েছে ডিবি।

তদন্তসংশ্লিষ্টদের ভাষ্য অনুযায়ী, গত ২৯ জুন প্রথমবার হত্যাচেষ্টার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছিল। তবে পিস্তলে গুলি লোড করার সময় মিসফায়ার হওয়ায় সেদিন পরিকল্পনা সফল হয়নি। পরে ২২ জুলাই অভিযুক্তরা ঢাকায় এসে মিরপুর-২ এলাকার একটি হোটেলে অবস্থান নেয় এবং ২৩ জুলাই রাতে হামলার প্রস্তুতি নেয়।

ডিবির ভাষ্য, ঘটনার রাতে বাবুর অফিসের সামনে অবস্থান নেওয়া সন্দেহভাজনদের পরিচয় জানতে চাওয়া হলে তারা নিজেদের মিরপুর-১০ এলাকার বাসিন্দা বলে পরিচয় দেয়। পরে তাদের দেহ তল্লাশির চেষ্টা করা হলে একজন অস্ত্র বের করে ইউসুফের বুকে গুলি চালায়। এ সময় দুর্বৃত্তদের এলোপাতাড়ি গুলিতে আরও দুজন আহত হন।

ডিবি প্রধান শফিকুল ইসলাম বলেন, গ্রেপ্তারদের জিজ্ঞাসাবাদে হাফিজুর রহমান হাফিজ ওরফে সিএনজি হাফিজের নাম এসেছে। তাকে এই হত্যাচেষ্টার মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে এবং তাকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। চুক্তির ২৫ লাখ টাকার মধ্যে প্রাথমিকভাবে কিছু টাকা অগ্রিম দেওয়া হয়েছিল। পাশাপাশি ভাড়াটে শুটারদের হোটেল ভাড়া ও খাওয়ার খরচও বহন করা হয় বলে জানিয়েছে ডিবি।

আসন্ন কাউন্সিলর নির্বাচনকে কেন্দ্র করেও এই হামলার পরিকল্পনা হয়ে থাকতে পারে বলে তদন্তে তথ্য পাওয়ার কথা জানিয়েছে গোয়েন্দা পুলিশ। তবে এ বিষয়ে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

ডিবি আরও জানায়, ঘটনায় একটি অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে এবং অন্য অস্ত্রগুলোর উৎস শনাক্তে তদন্ত চলছে। এ ঘটনায় কাফরুল থানায় হত্যা ও অস্ত্র আইনে পৃথক দুটি মামলা হয়েছে। হত্যা মামলাটি বর্তমানে ডিবি তদন্ত করছে। গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে আইনগত কার্যক্রম চলমান রয়েছে এবং মামলার অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।