বুধবার , ১লা জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ১৭ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ - বর্ষাকাল || ১৬ই মহর্‌রম, ১৪৪৮ হিজরি

যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ব উপকূলে রেকর্ড তুষারপাত, ৫ হাজারের বেশি ফ্লাইট বাতিল

প্রকাশিত হয়েছে- মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ব উপকূলীয় অঙ্গরাজ্যগুলোতে ব্যাপক তুষারঝড় এবং রেকর্ডভাঙা তুষারপাত হয়েছে। এতে এই অঞ্চলভুক্ত বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে বাতিল হয়েছে ৫ হাজারের বেশি অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক ফ্লাইট।

গতকাল সোমবার ঘটেছে এই প্রাকৃতিক দুর্যোগ। এক বিবৃতিতে মার্কিন আবহাওয়া দপ্তর ন্যাশনাল ওয়েদার সার্ভিস (এনডব্লিউএস) জানিয়েছে, রোববার রাত থেকে সোমবার সারা দিন পূর্ব উপকূল অঞ্চলের উত্তর ক্যারোলাইনা থেকে মাইন অঙ্গরাজ্যের উত্তরাঞ্চল হয়ে কানাডার উত্তরাঞ্চল পর্যন্ত বয়ে গেছে তুষার ঝড় এবং তুষার পাত। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে নিউজার্সি, নিউইয়র্ক, ম্যাসাচুসেটস, রোড আইল্যান্ড, কানেক্টিকাট এবং ম্যাসাচুসেটস অঙ্গরাজ্য।

রোড আইল্যান্ড, ম্যাসাচুসেটসসের অনেক এলাকা ৩৭ ইঞ্চি পুরু তুষারের স্তরে ঢেকে গেছে। নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের রাজধানী নিউইয়র্ক সিটির সেন্ট্রাল পার্ক এলাকা ঢেকে গেছে ১৯ ইঞ্চি পুরু তুষারে। ঝড় ও তুষারপাতের কারণে নিউজার্সি, নিউইয়র্ক, ম্যাসাচুসেটস, রোড আইল্যান্ড, ম্যাসাচুসেটস- এই ৬ অঙ্গরাজ্যে বিদ্যুৎবিহীন হয়ে পড়েছে ৬ লাখেরও বেশি বাড়িঘর।

আয়তনে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে ছোট অঙ্গরাজ্য রোড আইল্যান্ড। ঝড়-তুষারপাতের জেরে এই অঙ্গরাজ্যের রাজধানী শহর প্রোভিডেন্স ৩৬ ইঞ্চি পুরু তুষারে ঢেকে গেছে। এটি একটি রেকর্ড; কারণ ১৯৭৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে এক তুষারঝড়ে প্রোভিডেন্স ২৮ দশমিক ৬ ইঞ্চি পুরু তুষারপাতে ঢেকে গিয়েছিল। এতদিন পর্যন্ত এটিই ছিল প্রোভিডেন্সে সর্বোচ্চ তুষারপাতের রেকর্ড।

ন্যাশনাল ওয়েদার সার্ভিসের কর্মকর্তা ক্যান্ডিস হেরেনকেসিন মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমসকে বলেছেন, “এটি (তুষারঝড় ও তুষারপাত) পুরোপুরি বিধ্বংসী। এই মাত্রার ঝড়-তুষারপাত দেখার পর অন্যদের মতো আমরাও হতবাক।”

ব্যাপক তুষারপাতের কারণে ইতোমধ্যে রোড আইল্যান্ড, কানেক্টিকাট, ম্যাসাচুসেটসে জরুরি নয়— এমন সব ধরনের ভ্রমণ ও গাড়ি চালনায় নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করা এক বার্তায় এ প্রসঙ্গে ম্যাসাচুসেটসের গভর্নর মাউরা হিলি বলেছেন, “ভারী তুষারপাতের কারণে এখন সড়ক-মহাসড়কগুলোর যে অবস্থা— তাতে গাড়ি চালানো অত্যন্ত বিপজ্জনক। আপনি যদি সড়কে চলতে গিয়ে বিপদে পড়েন— তাহলে সাহায্য কখন আসবে তার কোনো ঠিক-ঠিকানা নেই। তাই আমি সবাইকে অনুরোধ করছি, খুব জরুরি প্রয়োজন ছাড়া বাড়ির বাইরে বের হবেন না।”